অধ্যায় ২ জাবন সংগঠনের স্তর
1. নীচের যেটি অজৈব অণু নয়—-
(a) নিউক্লিক অ্যাসিড
(b) গ্যাস
(c) জল
(d) ক্ষার
উত্তরঃ (a) নিউক্লিক অ্যাসিড
2. কোন্টি জৈব অ্যাসিড
(a) H₂SO₄
(b) HNO3
(c) HCI
(d) ম্যালিক অ্যাসিড
উত্তরঃ (d) ম্যালিক অ্যাসিড
3. নীচের কোল্টি তীব্র অ্যাসিড নয়?
(a) HNO3
(b) HCI
(c) H2CO3
(d) H2SO4
উত্তরঃ (c) H2CO3
4. মাইক্রোস্কোপ-এর আবিষ্কর্তা হলেন—
(a) রবার্ট হুক
(b) লিউয়েনহক
(c) জানসেন ও জানসেন
(d) গ্যালিলিও
উত্তরঃ (c) জানসেন ও জানসেন
5. 1931 সালে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কর্তা হলেন—-
(a) হ্যালডেন ও ওপারিন
(b) ম্যাক্স নল ও আর্নস্ট রাসকা
(c) সিঙ্গার ও নিকলসন
(d) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ (b) ম্যাক্স নল ও আর্নস্ট রাসকা
6. মানবদেহের ক্ষুদ্রতম কোশটি হল—
(a) মনোসাইট
(b) বেসোফিল
(c) সেরিবেলামের দানা কোশ
(d) নিউট্রোফিল
উত্তরঃ (c) সেরিবেলামের দানা কোশ
7. যে কলার কোশপ্রাচীর পাতলা হয়, তাকে বলে—
(a) স্ক্লেরাইড
(b) প্যারেনকাইমা
(c) স্ক্লেরেনকাইমা
(d) কোলেনকাইমা
উত্তরঃ (b) প্যারেনকাইমা
৪. যে কলায় কোশান্তর রন্ধ্র দেখা যায়, তা হল—
(a) স্কেরেনকাইমা
(b) ভাজক কলা
(c) প্যারেনকাইমা
(d) স্ক্লেরাইড
উত্তরঃ (c) প্যারেনকাইমা
9. মধ্যচ্ছদার অবস্থান ফুসফুসের—
(a) মাঝখানে
(b) নীচে
(c) পাশে
(d) ওপরে
উত্তরঃ (b) নীচে
10. বক্ষগহ্বরে হৃৎপিণ্ডের দুপাশে মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত—
(a) যকৃৎ
(b) ফুসফুস
(c) প্লিহা
(d) পাকস্থলী
উত্তরঃ (b) ফুসফুস
সংক্ষিপ্ত প্ৰশ্নোত্তর
1. ক্ষুদ্র জৈব অণু কাকে বলে?
উত্তরঃ নিম্ন আণবিক ওজনযুক্ত যে অণুগুলি জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়, তাদের ক্ষুদ্র জৈব অণু বলে। যেমন-অ্যামিনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড।
2. বৃহৎ জৈব অণু কাকে বলে?
উত্তরঃ উচ্চ আণবিক ওজনযুক্ত যে অণুগুলি একাধিক ক্ষুদ্র জৈব অণুর সমন্বয়ে গঠিত এবং জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়, তাদের বৃহৎ জৈব অণু বলে। যেমন-ফ্যাট, প্রোটিন।
3. জলের গঠনগত বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তরঃ জল একটি অজৈব যৌগ যা দুই অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। এরা সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এক অণু জল তৈরি করে। জলের অণুগুলি আবার পরস্পর হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।
4. একক পর্দা কাকে বলে?
উত্তরঃ কোশীয় পর্দাগুলিকে (কোশপর্দা, অঙ্গাণু পর্দা) বিজ্ঞানী রবার্টসন (1959) একক পর্দা নামকরণ করেন যা, তাঁর মতে, প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন-এই তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত। বর্তমানে এগুলি দ্বিস্তরীয় লিপিড পর্দা ও প্রোটিনের সমন্বয় বলে মনে করা হয়।
5. ফ্যাগোসাইটোসিস কাকে বলে? ফ্যাগোজোম কী?
উত্তরঃ ফ্যাগোসাইটোসিস: যে প্রক্রিয়ায় ইউক্যারিওটিক প্রাণীকোশের কোশপর্দা কোশের ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে কঠিন বস্তু (খাদ্যবস্তু, জীবাণু ইত্যাদি) কোশের অভ্যন্তরে গ্রহণ করে, তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে।
6. কোলেনকাইমা কলার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ কোলেনকাইমা কলার দুটি বৈশিষ্ট্য হল-1 এই কলার কোশপ্রাচীর অসমানভাবে পুরু এবং সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ বা পেকটিন-নির্মিত। ② কোশে কোশগহ্বরযুক্ত সজীব প্রোটোপ্লাস্ট থাকে।
7. কোলেনকাইমা কলার দুটি কাজ লেখো।
উত্তরঃ কোলেনকাইমা কলার দুটি কাজ হল-① এই কলা প্রতিস্থাপক প্রকৃতির হওয়ায় বর্ধনশীল অঙ্গগুলিকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে। ② ক্লোরোপ্লাসটিড সমন্বিত কোলেনকাইমা কলা খাদ্য তৈরির কাজে সহায়তা করে।
8. স্কেরেনকাইমা কলার প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ স্ক্লেরেনকাইমা কলার প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হল-① কোশপ্রাচীর অত্যন্ত মোটা হয় ও তাতে অসমানভাবে লিগনিন জমে নানা প্রকার অলংকরণ সৃষ্টি হয়। ② সজীব প্রোটোপ্লাস্ট থাকে না, তাই কোশগুলি মৃত প্রকৃতির।
9. পাকস্থলী কাকে বলে? পাকস্থলীর কাজ লেখো।
উত্তরঃ পাকস্থলী: উদরগহ্বরের ওপরের দিকে, দেহের বামপাশে অবস্থানকারী পৌষ্টিকনালীর সর্বাপেক্ষা স্ফীত অংশটিকে পাকস্থলী বলে। এটি J-আকৃতিবিশিষ্ট পেশিময় থলি।
কাজ: ① পাকস্থলীর অন্তর্গাত্র থেকে নির্গত পাকরস বা গ্যাসট্রিক জুস খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। ② খাদ্যের সাময়িক সঞ্চয়ে এটি এর থেকে ক্ষরিত সাহায্য করে। HCI জীবাণু ধ্বংস করে।
10. আরজেনটাফিন বা এনটেরোক্রোমাফিন কোশ কোথায় দেখা যায়? এর কাজ কী?
উত্তরঃ ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডিনামের গাত্রে এই কোশ দেখা যায়। >> এই কোশ ক্ষরিত সেরোটোনিন ক্ষুদ্রান্ত্রে পেরিস্টলসিস ঘটায়।
11. পেপটিক কোশ কোথায় থাকে? এর কাজ কী?
উত্তরঃ পাকস্থলীর গাত্রে এই কোশ থাকে। এর অপর নাম জাইমোজেন কোশ বা চিফ কোশ।
পেপটিক কোশ নির্গত পেপসিনোজেন প্রোটিন পরিপাকে এবং গ্যাসট্রিক লাইপেজ ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে।
12. নিউক্লিয়াসের সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ প্রোটোপ্লাজমের প্রায় কেন্দ্রে অবস্থিত, ঘন, গোলাকার, দ্বি একক পর্দা বেষ্টিত, ক্রোমাটিন-সমন্বিত যে কোশীয় অঙ্গাণু কোশের সমর্ত্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে।
13. নিউক্লিয়াসের গঠনগত চারটি অংশের নাম লেখো। অনুরূপ প্রশ্ন, নিউক্লিয়াসের উপাদানগুলি কী কী?
উত্তরঃ নিউক্লিয়াসের গঠনগত চারটি অংশ হল-নিউক্লিওলাস, নিউক্লীয় জালক, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লীয় পর্দা।
14. নিউক্লিয়াসকে কোশের মস্তিষ্ক বলে কেন? বহু নিউক্লিয়াস-যুক্ত দুটি প্রাণীকোশের নাম লেখো।
উত্তরঃ কোশের মস্তিষ্ক-নিউক্লিয়াস: কোশমধ্যস্থ বিভিন্নপ্রকার বিপাকীয় কাজ নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে, একে কোশের মস্তিষ্ক বলা হয়।
বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণীকোশ: বহু নিউক্লিয়াস-যুক্ত দুটি প্রাণীকোশ হল ওপালিনা ও মানবদেহের ঐচ্ছিক পেশিকোশ।
15. মানুষের হৎপিণ্ডটি কোথায় অবস্থিত? এর কোন্ প্রকোষ্ঠ সংকুচিত হলে সমগ্র দেহে রক্ত পরিবাহিত হয়?
উত্তরঃ মানুষের হৃৎপিণ্ডটি বক্ষগহ্বরে দুটি ফুসফুসের মাঝখানে কিছুটা বামদিক ঘেঁষে অবস্থান করে।এর বাম নিলয় সংকুচিত হলে সমগ্র দেহে রক্ত পরিবাহিত হয়।