Chapter 4
বারিমণ্ডল
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর [TYPE-I]
1. ভৌমজলের (Ground water) সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরে শিলার ফাঁকফোঁকর ভূপৃষ্ঠ থেকে চুঁইয়ে নামা জলের দ্বারা সম্পৃক্ত থাকে। ভূ-অভ্যন্তরের এই জলকে ভৌমজল বলে।
ভূবিজ্ঞানী আর এস লোধার মতে, 'ভূ-অভ্যন্তরে অপ্রবেশ্য স্তরের ওপর মাটি ও শিলার রন্দ্রগুলিতে অধিকার করে থাকা জলকে ভৌমজল বলা হয়।
গুরুত্বঃ ভূজল বা ভৌমজল গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। পৃথিবীর মোট জলের মাত্র 62% ভৌমজল হলেও পানীয় হিসেবে, সেচের কাজে, শিল্পে এর ভূমিকা অপরিসীম।
2. ভৌমজলের উল্লেখযোগ্য দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ ভৌমজলের উল্লেখযোগ্য দুটি বৈশিষ্ট্য হল—
(i) সর্বাধিক সঞ্চয়: ভূগর্ভে 400 মিটার গভীরে ভৌমজলের সর্বাধিক সঞ্চয় দেখা যায়।
(ii) চাপ ও উন্নতা: ভূপৃষ্ঠস্থ জল অপেক্ষা ভৌম জলের চাপ ও উয়তা বেশি হওয়ায় সাধারণ জল অপেক্ষা ভৌম জলের চাপ ও উয়তা বেশি হওয়ায় সাধারণ জল অপেক্ষা ভৌমজলের দ্রবণ ক্ষমতা বেশি।
(iii) উপযোগিতা: বেশির ভাগ ভৌমজল পানের উপযোগী এবং ভৌমজলে উপকারী খনিজ অধিক থাকায় মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
3. আবহিক জল (Meteoric water) কাকে বলে?
উত্তরঃ অধঃক্ষেপণের সমস্ত প্রকার থেকে আসা জল, তুষার ও হিমবাহ গলা জল, নদী-নালা, খাল, হ্রদ প্রভৃতি জলরাশির জল চুঁইয়ে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভৌমজলে পরিণত হয়। ভৌমজলের এই প্রকারকে 'আবহিক জল' বলা হয়।
বৈশিষ্ট্যঃ (i) বৃহৎ ভাণ্ডার— ভৌমজলের যতগুলো ভাণ্ডার আছে তার মধ্যে আবহিক জল সর্ববৃহৎ জল ভাণ্ডার।
(ii) সম্পর্ক — ঋতু পরিবর্তনের সাথে আবহিক জল কমে বাড়ে বলে ঋতু পরিবর্তনের সাথে ভৌমজলতল ওঠা-নামা করে।
4. সহজাত জল (Connate water) কাকে বলে?
উত্তরঃ সমুদ্র, হ্রদ, অগভীর মহীখাতে প্রাকৃতিক শক্তি (নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি) পলি সঞ্চয় করলে ওই অংশের জল পলিস্তরের মধ্যে থেকে যায়। পাললিক শিলা সৃষ্টির প্রাক্কালের জলরাশি পাললিক শিলাস্তরে ভাঁজের অধোভঙ্গগুলির মধ্যে আবদ্ধ অবস্থায় থেকে গেলে তাকে সহজাত জল বলা হয়।
বৈশিষ্ট্যঃ (i) ভিন্ন নাম-সহজাত জল জীবাশ্ম জল (Fossil Water) নামেও পরিচিত। (ii) সহজাত জল পানের উপযোগী। উপকারী খনিজ এই জলে উপস্থিত থাকায়, এই জল পান করলে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
5. উৎস্যন্দ জল (Juvenile water) কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূগর্ভের গভীরে ম্যাগমা থেকে জলীয় বাষ্প পৃথক হয়ে ঘনীভূত হলে জলে পরিণত হয়। এই জল কৈশিক প্রক্রিয়ায় ওপরে ওঠে আসলে এবং ভৌমজলরূপে সঞ্চিত হলে তাকে উৎস্যন্দ জল বলা হয়।
বৈশিষ্ট্যঃ (i) তাপ ও খনিজ-ম্যাগমা থেকে নির্গত হওয়ার কারণে উৎস্যন্দ জল অধিক উয় (50° সে. এর বেশি) এবং জলে খনিজের উপস্থিতিও যথেষ্ট বেশি থাকে। (ii) ভিন্ন নাম-ম্যাগমা থেকে সৃষ্টি হওয়ায় এই জলকে ম্যাগমাটিক ওয়াটার বলা হয়। উৎস্যন্দ জল সাধারণত উয় প্রস্রবণের মধ্য দিয়ে ভূপৃষ্ঠ বেরিয়ে আসে।
6. জলপীঠ কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরে সম্পৃক্ত স্তরে সঞ্চিত জলের ঊর্ধ্বসীমা বা শীর্ষদেশগুলিকে যুক্ত করে যে রেখা পাওয়া যায়, তাকে জলপীঠ বলা হয়।
7. অসম্পৃক্ত স্তর কাকে বলে?
উত্তরঃ মৃত্তিকা বা শিলাস্তরের যে স্তরের মধ্য দিয়ে জল সহজেই নীচে চলে যায় অর্থাৎ যে স্তর জল ধরে রাখতে পারে না, তাকে অসম্পৃক্ত স্তর বলে।
৪. সম্পূর্ণ আবদ্ধ অ্যাকুইফার কাকে বলে?
উত্তরঃ স্বল্প পরিসর স্থানযুক্ত অ্যাকুইফারের একদিকে অ্যাকুইটার্ড ও বাকি তিন দিকে অ্যাকুইফিউজ ও অ্যাকুইকুড থাকলে, তাকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অ্যাকুইফার বলে।
9. প্রকৃতিগত পার্থক্য অনুযায়ী ভাদোস স্তর কয়প্রকার ও কী কী?
উত্তরঃ প্রকৃতিগত পার্থক্য অনুযায়ী ভাদোস স্তর তিনপ্রকার। যথা- (i) মৃত্তিকা জলস্তর, (ii) কৈশিক স্তর এবং (iii) মধ্যবর্তী ভাদোস স্তর।
10. সহজাত জলের উৎস কী?
উত্তরঃ সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে পাললিক শিলা সৃষ্টির সময়কালে শিলার মধ্যে সঞ্চিত জলই হল সহজাত জলের উৎস।
11. আবহিক জলের উৎসগুলি কী?
উত্তরঃ আবহিক জলের উৎসগুলি হল-বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, শিশির বিন্দু, তুহিন প্রভৃতি।
12. জলবাহী স্তর বা অ্যাকুইফার (Aquifer) কাকে বলে?
উত্তরঃ ল্যাটিন শব্দ 'aqui'-এর অর্থ 'aqua' বা জল এবং 'fer'-এর অর্থ 'ferre' বা বহনকারী অর্থাৎ অ্যাকুইফারে অর্থ জলবাহী স্তর।
সংজ্ঞা: ভূ-অভ্যন্তরে যে শিলাস্তরে উপযুক্ত সচ্ছিদ্রতা বর্তমান থাকায় ভূপৃষ্ঠস্থ জল চুঁইয়ে প্রবেশ করে, ভৌম জল জমে এবং সেই সঞ্চিত জল সহজে আহরণ করা যায়, সেই শিলা বা মৃত্তিকা স্তরকে জলবাহী স্তর বা অ্যাকুইফার বলা হয়।
13. নদী অববাহিকা (Drainage basin) কাকে বলে?
উত্তরঃ প্রধান নদী এবং তার উপনদীগুলি যে জল বয়ে এনে তাদের প্রবাহে মেলায় প্রবাহপথের সেই সম্পূর্ণ অংশ বা অঞ্চলটিকে প্রধান নদীর অববাহিকা বলা হয়। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, পাঞ্জাব, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঙ্গা নদীর অববাহিকার অন্তর্গত।
উদাহরণ: আমাজন নদীর অববাহিকা (70.80 লক্ষ বর্গকিমি) পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা। গঙ্গা নদীর অববাহিকা (3.52 লক্ষ বর্গকিমি) ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকার উদাহরণ।