Chapter 16


ভারতের দৈনিক আবহাওয়া মানচিত্রের ব্যাখ্যা

অতি সংক্ষিপ্ত ও মৌখিক প্রশ্নাবলি


1. আবহাওয়া মানচিত্রের বলতে কী বোঝ?


উত্তরঃ বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর উয়তা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত তথা অধঃক্ষেপণ প্রভৃতি উপাদানগুলি বায়ুমণ্ডলের দৈনন্দিন অবস্থাকে নির্দেশ করে। যে মানচিত্র থেকে এইসব উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করে মানচিত্রে প্রদর্শিত অঞ্চলের নির্দিষ্ট দিনের ও নির্দিষ্ট সময়ের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি অনুধাবন করা যায়, সেই মানচিত্রকে আবহাওয়া মানচিত্র বলে। আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানগুলিকে বিশ্ব আবহাওয়া দপ্তর দ্বারা নির্দিষ্ট করা সাংকেতিক চিহ্ন ও সংখ্যাগত মানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।


2. আবহাওয়ার উপাদানগুলি কী?


উত্তরঃ আবহাওয়া মানচিত্র থেকে সাধারণত বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা (মেঘাচ্ছন্নতার প্রকৃতি ও পরিমাণ), অধঃক্ষেপণ (বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত), সমুদ্রের অবস্থা, বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয় এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।


3. আবহাওয়া মানচিত্রে আকাশের অবস্থার জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ আবহাওয়ার মানচিত্রে আকাশের অবস্থার যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপন করা হয়, সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন।

আকাশের অবস্থা বলতে প্রধানত মেঘমুক্ত বা মেঘেঢাকা আকাশকে বোঝায়। কোনো আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত আকাশের কতখানি অংশ মেঘহীন অথবা মেঘে পূর্ণ তা দেখা হয়। সাধারণত আকাশে মেঘাচ্ছন্নতার হিসাব অক্টাসে করা হয়। অর্থাৎ সমগ্র আকাশকে আটটি দিক অনুযায়ী আট ভাগে ভাগ করে মেঘাচ্ছন্নতার পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এ ছাড়া, একই সঙ্গে মেঘের উচ্চতা অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করা হয়। 1957 সালের আগে পর্যন্ত ভারতের মানচিত্রে উঁচু মেঘকে দেখানো হত। তবে উঁচু মেঘের গুরুত্ব না থাকায় 1957 সাল থেকে মানচিত্রে একে আর দেখানো হয় না। মেঘের প্রকার ও পরিমাণ সাংকেতিক চিহ্নের সাহায্যে দেখানো হল—


4. আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুর চাপের জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ  বায়ুর চাপের জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপন করা হয় সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন।


কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একক ক্ষেত্রফলের ওপর বায়ুমণ্ডল তার ওজনের জন্য লম্বভাবে যে পরিমাণ বল প্রয়োগ করে, তাকে ওই স্থানের বায়ুর চাপ বলা হয়। আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুর চাপ সমপ্রেষরেখা দ্বারা দেখানো হয়। চাপের পরিমাণ মিলিবারে প্রকাশ করা হয়। সমপ্রেষরেখাগুলি 2 মিলিবার ব্যবধানে টানা থাকে। মানচিত্রে উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ ক্ষেত্র বোঝাতে যথাক্রমে ইংরেজি অক্ষর Hও L লেখা থাকে। এই উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ আপেক্ষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এরা কোনো চরম মান দ্বারা নির্দিষ্ট বা স্থির করা হয় না। বায়ুর চাপ সাধারণ ব্যারোমিটারের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়।


5. আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুর দিক ও গতির জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ বায়ুর দিক ও গতির জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপন করা হয় সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন।


বায়ুর একটি দিক ও গতিবেগ থাকায় এটি একটি ভেক্টর রাশি হিসেবে বিবেচিত। বায়ুপ্রবাহের দিক তিরচিহ্ন দিয়ে এবং গতিবেগ তিরের পশ্চাতে ছোটো রেখা (Hand) কিংবা পাখির পালকের চিহ্ন (Quill) দিয়ে দেখানো হয়। বায়ু যেদিকে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ মানচিত্রে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশনের অভিমুখে তিরের অগ্রভাগ থাকে। বায়ুর গতিবেগের চিহ্নটি সর্বদা বায়ুপ্রবাহের অভিমুখে প্রদর্শিত তিরের বাঁ-দিকেই থাকে।


বায়ুর গতিবেগ সাধারণত 'নটিক্যাল মাইল' (Nautical mile) বা নট (knot)-এ প্রকাশ করা হয়। [1 নটিক্যাল মাইল = 1.15 ভৌগোলিক মাইল বা 1.85 কিমি]


বায়ুর দিক ও গতিবেগ সাংকেতিক চিহ্নের দ্বারা দেখানো হল— 


6. আবহাওয়া মানচিত্রে অধঃক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ আবহাওয়া মানচিত্রে অধঃক্ষেপণ যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপন করা হয় সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন।


অধঃক্ষেপণের বিভিন্ন রূপ হল-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টি, তুষারপাত প্রভৃতি। আবহাওয়া দপ্তর কর্তৃক নির্দিষ্ট করা সংকেতিক চিহ্নগুলি হল— 


প্রকার

সংকেত

সংকেত/সংখ্যা

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ (সেমি)

Rain (বৃষ্টি)

0.25 - 0.74

Drizzle (ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি)

,

l

0.75 - 1.49

Shower (মুশলধারে বৃষ্টি)

1,2,3 ইত্যাদি

1,2,3, ইত্যাদি

Hail (শিলাবৃষ্টি)



Snowfall (তুষারপাত




7. আবহাওয়া মানচিত্রে সমুদ্রের অবস্থা জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ আবহাওয়া মানচিত্রে সমুদ্রের অবস্থা যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা দেখানো হয় সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।


সমুদ্রের অবস্থা বলতে সমুদ্রের শান্ত ভাব অথবা উত্তাল ভাব অর্থাৎ ঢেউয়ের প্রকৃতিকে বোঝায়। সমুদ্রের অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত সংকেতগুলি হল— 


সংকেত

অবস্থা

Cm

Calm (শান্ত)

Sm

Smooth (মসৃণ)

SL

Slight (অস্থির)

Mod

Moderate (মাঝারি উত্তাল)

Ro

Rough (উত্তাল)

V.Ro

Very Rough (ভীষণ উত্তাল)

Hi

High (ক্ষুব্ধ)

V.Hi

Very High (ভীষণ ক্ষুব্ধ)

Ph

Phenomenal (অনন্য বিক্ষুব্ধ অবস্থা)

Direction of wave (তরঙ্গ অভিমুখ)


৪. আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার জন্য ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্নগুলি উল্লেখ করো।


উত্তরঃ আবহাওয়া মানচিত্রে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা যেসব সাংকেতিক চিহ্ন বা চরম মানবিশিষ্ট সংখ্যা দ্বারা উপস্থাপন করা হয় সেগুলিকে ভালোভাবে জানা ও পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ প্রয়োজন।


কখনো-কখনো স্থানীয়ভাবে ক্ষণস্থায়ী কিছু বায়ুমণ্ডলীয় ঘটনা লক্ষ করা যায়। এই ঘটনাগুলি যে সংকেত চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, সেগুলি হল— 


অবস্থা

সংকেত

Drifting Snow (ভাসমান তুষারকণা)

Squall (হঠাৎ তীব্র ঝড়)

Lightening (বিদ্যুৎঝলক)

Dust / Sand Storm (ধুলো/ বালি-ঝড়)

Thunderstorm (বজ্র-ঝড়)

Haze (ঘোলাটে / অস্পষ্ট)

Dust Whirl (ধূলোমিশ্রিত ঘূর্ণি)

Mist (ভাসমান অর্ধতরল জলকণা)

=

Shallow Fog (হালকা কুয়াশা)

    ==

Fog (কুয়াশা)