Chapter 16


 আধুনিক বাংলা নাট্যসাহিত্যের ধারা


রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর


প্রশ্নঃ ১ বাংলা নাট্যসাহিত্যের সূচনা পর্বটি আলোচনা করো।


উত্তরঃ প্রাচীন কালের নাট্যচর্চা: বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আদি পর্ব থেকেই নাটকের প্রচলন ছিল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় 'চর্যাপদ'-এ-


"নাচন্তি বাজিল গান্তি দেবী 


বুদ্ধ নাটক বিসমা হোই।।"


আবার মধ্যযুগের আদি পর্বে বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'-এর গঠনরীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটিও 'নাটগীতি'। প্রথাগত নাটকের উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়-


(ক) পালাগান, কীর্তন কিংবা পাঁচালির অন্তর্গত বিবিধ চরিত্র ও সংলাপের মধ্যে নাটগীতির প্রবহমানতা ছিল। (খ) পুতুলনাচ, ছৌ, কালীনাচ, আলকাপ বা গম্ভীরার মতো লোকশিল্পে নাট্যসম্ভাবনা প্রচুর পরিমাণে ছিল। (গ) বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি এবং কবিগান, আখড়াই, হাফ-আখড়াই-এর মধ্যেও অভিনয়রীতি প্রচলিত ছিল।


আধুনিক যুগের সূচনা: তবে বাংলায় আধুনিক নাটকের চর্চা শুরু হয় মূলত ইউরোপীয় মঞ্চনাটক বা প্রসেনিয়াম থিয়েটারের প্রভাবে। ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দের আগে কলকাতার লালবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় 'প্লে হাউস', ইংরেজদের প্রথম রঙ্গালয়। কলকাতার বাইরে যেখানে যেখানে ইংরেজরা বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছিল সেখানেই একটি করে রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেমন-চন্দননগর থিয়েটার, চৌরঙ্গি থিয়েটার, দমদম থিয়েটার, সাঁসুসি থিয়েটার ইত্যাদি।


এর কিছু বছর পরে ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে রুশদেশবাসী গেরাসিম স্তেফানোভিচ লেবেদেফ কলকাতায় প্রথম 'দ্য ডিসগাইজ' নামক একটি ইংরেজি নাটকের বঙ্গানুবাদ করিয়ে বাঙালি নটনটীদের দিয়ে অভিনয় করান। গোলোকনাথ দাসের অনুবাদে এর নাম হয়েছিল 'কাল্পনিক সংবদল'। প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত হিন্দু থিয়েটারে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রসেনিয়াম রীতিতে বাঙালির চেষ্টায় প্রথম নাট্যাভিনয় হয়।


প্রশ্নঃ ২ হিন্দু থিয়েটারের প্রতিষ্ঠা ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।


উত্তরঃ হিন্দু থিয়েটার প্রতিষ্ঠা: ইতিহাস বলছে, ভারতবর্ষে নাট্যচর্চার উত্তর সূত্রপাত বৈদিক যুগ বা উত্তর-বৈদিক যুগে। তবে বাঙালির জীবনে আধুনিক রীতিতে নাট্যচর্চার সূত্রপাত ঘটেছিল ঊনবিংশ শতকের মধ্যভাগে। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত 'হিন্দু থিয়েটার'-এর মঞ্চ থেকেই বাঙালির আধুনিক নাট্যাভিনয়চর্চার সূচনা হয়। এখানেই একদিক খোলা মঞ্চ বা 'প্রসেনিয়াম' রীতিতে নাট্যাভিনয় পরিবেশনার ক্ষেত্রে বাঙালির হাতেখড়ি হল বলা চলে।


বৈশিষ্ট্য: শহর কলকাতায় সেসময় আখড়াই, হাফ-আখড়াই, কীর্তন, পাঁচালি, কবির লড়াই, তরজা, যাত্রা প্রভৃতি রমরমিয়ে চলছিল। কিন্তু নব্য ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত বাঙালিবাবুরা এর মধ্যে আর আনন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এই বাবুসমাজকে নাট্যরসের আস্বাদদানের তাগিদে,

প্রসন্নকুমার ঠাকুরের নেতৃত্বে তাঁরই বাগানবাড়িতে নাট্যমঞ্চ গড়ে তোলা হল। এরই নাম হল 'হিন্দু থিয়েটার'। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর এই মঞ্চে শেকসপিয়রের 'জুলিয়াস সিজার'-এর অংশবিশেষ এবং ভবভূতির 'উত্তররামচরিত'-এর অভিনয় হয়-দুটি নাটকই হয় ইংরেজিতে।


গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: হিন্দু থিয়েটারের মধ্য দিয়েই বাঙালি প্রথম নিজ প্রচেষ্টায় নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে অনেকখানি অগ্রসর হতে পেরেছিল এবং বাঙালির সংস্কৃতিচর্চায় নাটক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, যার পরিণাম সুদূরপ্রসারী।


প্রশ্নঃ ৩ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির নাট্যশালা সম্পর্কে যা জানো লেখো।


উত্তরঃ প্রতিষ্ঠা: বাংলা নাট্যচর্চার ইতিহাসে জোড়াসাঁকো নাট্যশালা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। এটি প্রতিষ্ঠার মূলে ছিলেন সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, গোপাল উড়ের যাত্রা শুনে নাট্যশালা প্রতিষ্ঠার সংকল্প তাঁদের মনে জাগ্রত হয়। এখানে সর্বপ্রথম মধুসূদন দত্তের 'কৃয়কুমারী' ও পরে 'একেই কি বলে সভ্যতা' নাটকের অভিনয় হয়। একবার ওরিয়েন্টাল সেমিনারির প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র নন্দীর পরামর্শ অনুযায়ী একটি সামাজিক বিষয়কে উপজীব্য করে নাটক লেখার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এবং পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি ছিল 'বহুবিবাহ'। রামনারায়ণ তর্করত্ন বহুবিবাহ সম্পর্কে 'নবনাটক' রচনা করে দুশো টাকা পুরস্কার পান। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ৫ জানুয়ারি 'নবনাটক'-এর অভিনয় শুরু হয়, অল্প সময়ের ব্যবধানে নাটকটি নয় বার অভিনীত হয়। 


নাট্যরীতি: বাস্তবরীতি অনুসরণ করার জন্য আঠা দিয়ে অরণ্যের দৃশ্যে জীবন্ত জোনাকি পোকা আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্যাসের আলো দিয়ে সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যার মনোরম দৃশ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। শিল্পীরা দৃশ্যাঙ্কনে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। এসবের জন্য তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়, বিশেষত 'সোমপ্রকাশ' পত্রিকায় বিস্তর প্রশংসা অর্জন করেছিল এই নাট্যশালা। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে এই নাট্যশালা লুপ্ত হয়ে যায়। শুধুমাত্র জৌলুস দেখানোই এর প্রধান লক্ষ্য ছিল না, পাশ্চাত্য নাট্যরীতির সঙ্গে ভারতীয় নাট্যরীতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন নাট্যধারা সৃষ্টি করাই ছিল এই নাট্যশালার উদ্দেশ্য। স্মরণীয় যে, এই সময়েই ঠাকুরবাড়িতে হিন্দুমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়, জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।


প্রশ্নঃ ৪ বেলগাছিয়া নাট্যশালা স্থাপন এবং এই নাট্যালয়ে অভিনীত নাটকগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।


উত্তরঃ নাটাশালা স্থাপন: শৌখিন নাট্যশালার কালপর্বে পাইকপাড়ার রাজা ঈশ্বর সিংহ এবং প্রতাপচন্দ্র সিংহ তাঁদের বেলগাছিয়ার বাগানবাড়িতে (যেটি প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের বাগানবাড়ি নামে খ্যাত ছিল) নাট্যশালা স্থাপন করেন। সে সময়ের প্রখ্যাত নাট্যকার রামনারায়ণ তর্করত্নের সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনূদিত নাটক 'রত্নাবলী' ও মৌলিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' এই নাট্যশালায় অভিনীত হয়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত নাটক 'রত্নাবলী' ও তারপর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক দেখে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাঙালির নিকৃষ্ট নাট্যরুচি সম্পর্কে হতাশা অনুভব করেন।


অভিনীত নাটকসমূহ: হতাশ মধুসূদন বাংলা ভাষায় সার্থক রসোত্তীর্ণ নাটক রচনায় উদ্যোগী হন ও মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। বাংলা ভাষায় পাশ্চাত্য আঙ্গিকে রচিত প্রথম নাটক হিসেবে এটিকেই চিহ্নিত করা যায়। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ সেপ্টেম্বর 'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। মাত্র চব্বিশ-পঁচিশ দিনের মধ্যে নাটকটির ছয় বার অভিনয়ের তথ্যই প্রমাণ করে 'শর্মিষ্ঠা' একটি অতি জনপ্রিয় নাটকে পরিণত হয়েছিল। এই মঞ্চে কয়েকটি ইংরেজি নাটকের মহড়াও হয়েছিল। বেলগাছিয়া থিয়েটারের প্রধান উদ্যোক্তা ঈশ্বরচন্দ্র সিংহের অকালপ্রয়াণ এই নাট্যশালার অগ্রগতিকে বুদ্ধ করে। বেলগাছিয়া নাট্যশালাকে অবলম্বন করে সেকালে শিক্ষিত বাঙালি ও নাট্যপ্রেমীরা একজায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে দেশীয় সুর বসিয়ে সংগীত পরিবেশনে অভিনবত্ব দেখানো হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে বেলগাছিয়া নাট্যশালা উৎকর্ষের যে সীমাকে স্পর্শ করেছিল, বাংলা রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসে তা চিরস্মরণীয়।


প্রশ্নঃ ৫ মাইকেল মধুসূদন দত্তের দুটি নাটকের নাম লেখো এবং নাট্যকার হিসেবে তাঁর কৃতিত্ব আলোচনা করো।


অথবা, বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে মধুসূদন দত্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো।


উত্তরঃ ভূমিকা: সময়টা উনিশ শতকের প্রথম দিক। বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হচ্ছে রামনারায়ণ তর্করত্নের 'রত্নাবলী'। দর্শকাসনে রয়েছেন স্বনামধন্য নবীন এক কবি। প্রবল আগ্রহে 'বাংলা নাটক' দেখতে এসেছেন। কিন্তু এ কি। এ তো সেই একই সংস্কৃত নাট্যশৈলীর চর্বিতচর্বণ। হতাশ হলেন তিনি। ব্যাস, চ্যালেঞ্জ নিলেন সেই মুহূর্তেই। বাংলায় বাঙালি দর্শকের জন্য উপযোগী নাটক লিখে দেখিয়ে দেবেন। এখান থেকেই শুরু হল নাট্যকার মধুসূদনের জয়যাত্রা।


নাটকসমূহ: আলোচনার সুবিধার্থে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটকগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়-


পৌরাণিক নাটক: 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯): মধুসূদনের প্রথম পৌরাণিক নাটক হল 'শর্মিষ্ঠা'। মহাভারতের যযাতি-শর্মিষ্ঠা-দেবযানীর কাহিনি স্থান পেয়েছে এখানে। এই নাটকে পাশ্চাত্য রীতির প্রভাব লক্ষ করা যায়।


পদ্মাবতী (১৮৬০): গ্রিক পুরাণকথা Apple of discord অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' নাটকটি লেখেন। এই নাটকেই প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার হয়।


ঐতিহাসিক নাটক: 'কৃয়কুমারী' (১৮৬১): মধুসূদনের একমাত্র ঐতিহাসিক নাটক হল 'কৃয়কুমারী'-যা বাংলার প্রথম ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি। কর্নেল টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' গ্রন্থের একটি করুণ আখ্যানকে নাটকের বিষয় করে তোলা হয়েছে।


রূপক নাটক: 'মায়াকানন' (১৮৭৩): এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অসমাপ্ত নাটক। তাঁর অকালপ্রয়াণের কারণে ভুবনচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নাটকটি শেষ করেছিলেন।


প্রহসনসমূহ: মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ দুটি প্রহসনমূলক নাটক হল-'একেই কি বলে সভ্যতা' (১৮৬০), 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' (১৮৬০)।


নাট্যবৈশিষ্ট্য:


(ক) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য আঙ্গিকের মেলবন্ধন।


(খ) চরিত্রসমূহের মৌলিকতা।


(গ) নাটকের ত্রি-ঐক্য রক্ষার প্রচেষ্টা।


(ঘ) সংহত বারীতি অনুসরণ।


(ঙ) নাটকে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ।


মূল্যায়ন: বাংলা নাট্যসাহিত্যের দুর্বল প্রাঙ্গণে মাইকেল মধুসূদনই প্রথম অভিনবত্বের জোয়ার এনেছিলেন। স্বদেশি ভাব রক্ষা করে, তার সঙ্গে পাশ্চাত্য নাটকের উপাদানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি বাংলা নাটকে স্বাতন্ত্র্য এনেছিলেন। তাঁর জীবননাট্যে অকালে যবনিকাপাত ঘটে যাওয়ায় বাংলা নাট্যসাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হলেও, তাঁর নাট্যপ্রতিভার বিচ্ছুরণ পরবর্তী প্রজন্মেও বহমান।


প্রশ্নঃ ৬ বাংলা প্রহসনে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো।


উত্তরঃ প্রহসনসমূহ: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত মধুসূদনের নাট্যপ্রতিভার মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন - "নাট্য সাহিত্যেও তাঁহার দান উপেক্ষণীয় নয়, তিনিই আধুনিক বাংলা নাটকের জনক...."। বাংলা নাটকের বিচিত্র প্রসারে তাঁর প্রহসনগুলি সমসাময়িকতার জীবন্ত দলিল। তাঁর প্রহসনগুলি হল-'একেই কি বলে সভ্যতা' (১৮৬০), 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' (১৮৬০)।


'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসনে তৎকালীন নব্য শিক্ষিত যুবসমাজের লাম্পট্য, ব্যভিচার চিত্রিত করেছেন মধুসূদন। 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসনে তিনি ধর্মের ধ্বজাধারী, প্রাচীন রক্ষণশীল জমিদারতন্ত্র ও পুঁজিপতিদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন।


প্রহসনগুলির গুরুত্ব: 


(ক) মধুসূদনের পূর্বে রামনারায়ণ প্রমুখ নাট্যকার প্রহসন রচনার চেষ্টা করলেও মধুসূদনের প্রহসনগুলি প্রথম সার্থক প্রহসন।


(খ) তাঁর প্রহসনগুলি তৎকালীন সমাজের বিশ্বস্ত ছবি।


(গ) পাশ্চাত্য আঙ্গিকের মুক্তি ঘটিয়েছেন।


(ঘ) চরিত্রচিত্রণে ও বাস্তবতার প্রয়োগে প্রহসনগুলি জীবন্ত হয়ে উঠেছে। 


প্রহসন রচনায় দক্ষতা: প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য উভয় প্রকার নাট্যরীতির মেলবন্ধন মধুসূদনের প্রহসন দুটিতে লক্ষ করা যায়। তাঁর প্রহসনগুলির সংলাপ ক্ষেত্র বিশেষে দীর্ঘ হয়ে উঠলেও প্রহসনের সংলাপ রচনায় মধুসূদন সংহত বাক্রীতি অনুসরণ করেছেন। প্রহসনের চরিত্রনির্মাণের ক্ষেত্রেও বাস্তবতাকে কঠোরভাবে স্বীকার করা হয়েছে। বাংলা প্রহসনের পথিকৃৎ মধুসূদনের প্রহসনসমূহ বাংলা নাট্যসাহিত্যের অমূল্য সম্পদরূপে বিবেচিত।