Chapter 1
রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1. আইনের সংজ্ঞা দাও। আইনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? 3+3=6 [WBCHSE (XI) '14]
উত্তরেঃ আইনের সংজ্ঞা: আইন হল সেই সমস্ত নিয়ম, যার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধিত হয়। আইনকে সবসময় অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হয়। তবে আইনের সংজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ লক্ষ করা যায়-
জন অস্টিন: জন অস্টিন-এর মতে, আইন হল সার্বভৌমের আদেশ (Law is the command of the sovereign)। তাঁর মতে, আইন হল অধস্তনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।
হল্যান্ড: হল্যান্ড-এর মতে, আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী সেই সমস্ত নিয়ম, যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রযুক্ত হয়।
গেটেল: গেটেল আইন বলতে শুধুমাত্র সেই সমস্ত নিয়মকে বুঝিয়েছেন, যেগুলি রাষ্ট্র সৃষ্টি, স্বীকার ও বলবৎ করে।
মার্কসবাদী: মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ভিশিস্কি-র মতে, আইন বলতে সেই সমস্ত আচরণবিধিকে বোঝায়, যার মাধ্যমে প্রতিপত্তিশালী শ্রেণির ইচ্ছা প্রকাশ লাভ করে।
আইনের বৈশিষ্ট্য: সাবেকি ও আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল-
আইন হল কতকগুলি বিধিবদ্ধ আচার-আচরণ।
আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ম।
মানুষের চিন্তাভাবনার উপর আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
রাষ্ট্রই সার্বভৌম সংস্থা হিসেবে আইনি ব্য়বস্থাকে বজায় রাখে।
আইন গতিশীল এবং দেশকালভেদে পরিবর্তনশীল।
আইন প্রথা, রীতিনীতির ঊর্ধ্বে অবস্থান করে বলেই আইনের পিছনে সার্বভৌম শক্তির সমর্থন থাকে, যার ফলে আইন সবার উপরে অবস্থান করে।
আইন হল সর্বজনীন, সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট, যা সমাজের প্রতিটি জনগণের উপর সমভাবে প্রযোজ্য।
আবার মার্কসবাদীদের মতে, শ্রেণিবিভক্ত সমাজে আইন কখনও সর্বজনীন হতে পারে না।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায় যে, আইন হল সেইসব নিয়ম, যার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সম্ভব। রুডলফ্ট স্ট্যামলার বলেছেন, আইনের পিছনে আছে সমষ্টিগত ইচ্ছা ও সামাজিক লক্ষ্যসমূহ।
2. আইনের প্রমুখ উৎসগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। [WBCHSE (XI) '22 '17]
অথবা, আইনের বিভিন্ন উৎস আলোচনা করো। [WBCHSE (XI) '10]
উত্তরঃ অতীতে আইনের উৎস হিসেবে ঈশ্বরের আদেশ, প্রথা, ধর্ম ইত্যাদিকে বোঝানো হত। বর্তমানে আইনকে সংকলিত বা বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন হিসেবে দেখা হয়।
আইনের উৎসসমূহ: অধ্যাপক হল্যান্ড-এর মর্তানুসারে, আইনের প্রধানত ছয়টি উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়। সেগুলি হল-
প্রথা: প্রথা বলতে সমাজে বহুদিন ধরে প্রচলিত আচার-আচরণ, অভ্যাস, রীতিনীতি ও লোকাচারকে বোঝায়। প্রথা (Custom) রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করলে আইনের মর্যাদা পায়। সব দেশের সাধারণ আইন (Common Law) প্রথার উপর প্রতিষ্ঠিত বলেই বহু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রথাকেই আইনের প্রাচীনতম উৎস বলে চিহ্নিত করেছেন।
ধর্ম: প্রত্যেক দেশের প্রাচীন সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। প্রাচীনকালে নিরক্ষর ও ধর্মভীরু মানুষের কাছে ধর্মীয় অনুশাসন ছিল আইনেরই নামান্তর। পরবর্তীকালে ওই ধর্মীয় অনুশাসনই আইনে রূপান্তরিত হয়।
বিচারালয়ের সিস্রান্ত: আদিম সমাজে দ্বন্দ্বের উদ্ভব হলে তা মীমাংসার দায়িত্ব রাজা বা দলপতির উপর ন্যস্ত হত। তাদের রায় ভবিষ্যতের বিচারকার্যে আইন হিসেবে গণ্য হত। বর্তমানেও বিচারপতিদের ঘোষিত সিদ্ধান্ত, সময়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পুরাতন আইনের ব্যাখ্যা আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা: আইনের অন্যতম প্রধান উৎস হল আইনজ্ঞদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Discussion)। আইনজ্ঞ, পণ্ডিত ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত, টীকা, মন্তব্য প্রভৃতি বিচারপতিরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিশ্লেষণ ও আলোচনা করেন।
ন্যায়নীতি: আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল ন্যায়নীতি (Justice) বা ন্যায়বিচার। যেই ক্ষেত্রে প্রচলিত বা বিদ্যমান আইন সাধারণ বুদ্ধি বা বিবেচনা অনুসরণ করে ব্যবহার করা যায় না, সেই ক্ষেত্রে বিচারক আইনের পবিত্রতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং আইনের ভুলত্রুটি সংশোধন করে এটিকে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে, পরিমার্জিতরূপে পেশ করেন।
আইনসভা: আধুনিক যুগে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই আইনসভাকে আইনের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আইনসভায় বিধিবদ্ধ আইনকে নির্দিষ্ট, পদ্ধতিগত, গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণাপ্রসূত আইন বলা হয়।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায়, আইনের কোনো উৎস পৃথকভাবে নয়, সম্মিলিতভাবেই আইন সৃষ্টিতে সাহায্য করেছে। তাই আইনের ছয়টি উৎসের গুরুত্বই অপরিসীম।
3. আন্তর্জাতিক আইনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।
অথবা, আন্তর্জাতিক আইনকে কি আইন পদবাচ্য বলা যায়- মতামতটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ আন্তর্জাতিক আইনের প্রকৃতি: আন্তর্জাতিক আইন পদবাচ্য কি না-এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য বর্তমান।
বিপক্ষে মতামত: অনেক বিশেষজ্ঞরা এই আইনকে প্রকৃত আইনরূপে গণ্য করেন না, এই প্রসঙ্গে তাঁদের যুক্তিগুলি হল-
(ⅰ) প্রকৃত মর্যাদাসম্পন্ন নয়: হক্স, অস্টিন, হল্যান্ড, প্রমুখের বক্তব্য হল-সার্বভৌমের আদেশ হল আইন, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন কোনো চরম ক্ষমতাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রযুক্ত বা সৃষ্ট নয়। ফলে আন্তর্জাতিক আইনকে কোনো সার্বভৌমের আদেশ বলা যায় না।
(ii) মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়: রাষ্ট্রীয় আইন মান্য করা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে বাধ্যতামূলক। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হলে তার প্রতিকার বা আইনটিকে মান্য করতে কোনো রাষ্ট্রই বাধ্য নয়। এমনকি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী রাষ্ট্রকে শাস্তিপ্রদানের মতো কোনো সার্বভৌম শক্তি নেই।
(iii) আইনসভার অস্তিত্বহীনতা: প্রত্যেক দেশে আইন প্রণয়ন করার জন্য একটি জাতীয় আইনসভার অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন করার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক আইনসভার ভূমিকা নেই। আন্তর্জাতিক আইন বলতে কতকগুলি অসম্পূর্ণ নিয়মের সমষ্টিকে বোঝায়। এর কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বসম্মত রূপ দেখতে পাওয়া যায় না।
সপক্ষে মতামত: হেনরি মেইন, স্যাভিনি প্রমুখ ঐতিহাসিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং ওপেনহাইম, পোলক, কেলসন, হল, ফেনউইক, ব্রিয়ারলি প্রমুখ আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ের পণ্ডিতবর্গ আন্তর্জাতিক আইনকে আইনের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষপাতী। তাঁদের দেওয়া যুক্তিগুলি হল-
i. আন্তর্জাতিক আইনে উৎসের উপস্থিতি : আন্তর্জাতিক আইন জাতীয় আইনের মতোই প্রথা, রীতিনীতি, বিচারালয়ের রায়, আন্তর্জাতিক সন্ধি দ্বারা সৃষ্ট নিয়মাবলি এবং জাতিরাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট নিয়মাবলির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই উৎসগত বিচারে আন্তর্জাতিক আইন 'আইন পদবাচ্য' বিষয়।
ii. মর্যাদাসম্পন্ন: আন্তর্জাতিক আইনকে ভঙ্গ করা হয় বলে তা আইন নয়-এ যুক্তিও ঠিক নয় বলে এই লেখকরা অভিমত প্রকাশ করেন। কারণ আন্তর্জাতিক আইনের মতো জাতীয় আইনও কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি ভঙ্গ করে থাকে। তা সত্ত্বেও যদি জাতীয় আইনকে আইন বলে গণ্য করা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনও আইনের পদবাচ্য হওয়া উচিত।
iii. বিভিন্ন সাল্মলান আন্তর্জাতিক আইলের উপস্থিতি : আন্তর্জাতিক আইনকে সুসংবদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন সম্মেলন আহূত হয়েছে, এর মধ্যে-প্যারিস সম্মেলন (১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ), হেগ সম্মেলন (১৮৯৯, ১৯০৭, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ) ইত্যাদি। এ ছাড়াও ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের আন্তর্জাতিক আইন কমিশন এ বিষয়ে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মূল্যায়ন: বর্তমানে বিশ্বশান্তি ও নিজ নিজ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যেক রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক আইনকে মেনে চলে। আন্তর্জাতিক আইনকে জাতীয় আইনের ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করা উচিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কখনো কখনো ঘটলেও আন্তর্জাতিক আইন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই জনসাধারণের কাছ থেকে আনুগত্য লাভ করেছে।
4. স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিরূপণ করো এবং এর প্রকারভেদ আলোচনা করো। 3+3=6 [WBCHSE (XI) '19, '15]
অথবা, স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও। স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে আলোচনা করো। [WBCHSE (XI) '11]
উত্তরে: স্বাধীনতার সংজ্ঞা: স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল। অতি শাসনের বিপরীত অবস্থাই হল স্বাধীনতা। বিনা বাধায় নিজ ব্যক্তিত্ব বিকাশ করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে। স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কিছু সংজ্ঞা নিম্নে আলোচনা করা হল-
জন স্টুয়ার্ট মিল: জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর 'On Liberty' শীর্ষক গ্রন্থে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে স্বাধীনতার সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতা হল ব্যক্তির চিন্তাধারার অব্যাহত প্রকাশ।
রুশো: রুশো স্বাধীনতা বলতে বুঝিয়েছেন সেই রাজনৈতিক পরিবেশ, যা মানুষকে সরল ও সীমাবদ্ধ জীব থেকে উন্নত, বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীবে পরিণত করে।
ল্যাস্কি: অধ্যাপক ল্যাস্কি নেতিবাচক অর্থে স্বাধীনতার সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতা হল সমাজের বিশেষ কিছু অবস্থার উপর থেকে বিধিনিষেধের অপসারণ ঘটানো। অপরদিকে ইতিবাচক অর্থে তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশের সযত্ন সংরক্ষণকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তি তার আত্মবিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ ভোগ করতে পারে।
স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ বা প্রকারভেদ : স্বাধীনতাকে মূলত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-
প্রাকৃতিক স্বাধীনতা: রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বাবস্থায় মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাসকালীন যে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করত, তাকে প্রাকৃতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
জাতীয় স্বাধীনতা: জাতীয় স্বাধীনতা বলতে জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার স্বাধীনতাকে বোঝায়। এইরূপ স্বাধীনতা সকল প্রকার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত।
সামাজিক স্বাধীনতা: সামাজিক রীতিনীতি, ঐতিহ্য, নৈতিকতার দ্বারা সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলা হয়, যা মূলত আইনের দ্বারা রক্ষিত হয়।
আইনসংগত স্বাধীনতা: রাষ্ট্র কর্তৃক আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনসংগত স্বাধীনতা বলা হয়। প্রকৃতিগত বিচারে এইরূপ স্বাধীনতা সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এবং সুনিয়ন্ত্রিত। আইনসংগত স্বাধীনতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা-
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অর্থ হল নিজেদের দ্বারা শাসিত হওয়া, ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ এবং আত্মবিকাশের সর্বপ্রকার সুযোগ লাভকরা।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা: রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে তথা রাজনৈতিক কাজে সাধারণ জনগণের সাবলীল অংশগ্রহণের সুযোগসুবিধাই রাজনৈতিক স্বাধীনতা নামে পরিচিত। যেমন-ভোটাধিকার, সকল প্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ নাগরিকের নির্বাচিত হওয়ার অধিকার।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ হল-অভাব, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
এ ছাড়াও আর একটি উল্লেখযোগ্য স্বাধীনতা হল-নৈতিক স্বাধীনতা। নৈতিক স্বাধীনতার অর্থ হল ব্যক্তির নৈতিক বিচারবুদ্ধি ও চেতনার স্বাধীনতা। ইংরেজ আদর্শবাদী দার্শনিক টি এইচ গ্রিন এবং বোসাংকেত প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করেন যে, নৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত সামাজিক এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।