Chapter 3
সরকারের বিভিন্ন রূপ
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
1. গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। [HS Model Question 24]
উঃ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ: গণতন্ত্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
(1) গণসার্বভৌমত্ব: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকারি কর্তৃপক্ষ জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং টিকে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণ তাদের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে।
(2) রাজনৈতিক সাম্য: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত রাজনৈতিক সাম্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক সাম্য বলতে, রাজনীতি তথা রাষ্ট্রনীতিতে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগসুবিধাকে বোঝায়। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমান সুবিধা ভোগ করাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে মনে করা হয়।
(3) সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও সংখ্যালঘু অধিকার সংরক্ষণ: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটাভুটিতে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, সেই দলের নেতা বা নেত্রী সরকার গঠন ও পরিচালনা করার সুযোগ পান। তাই একে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন বলা হয়। যদিও এই শাসনব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের অধিকারও সমভাবে সংরক্ষিত হয়।
(4) অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এখানে নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়, যাতে রাষ্ট্রের সকল যোগ্য নাগরিক যে-কোনো দলের প্রার্থী কিংবা যে-কোনো দলের সদস্যপদ গ্রহণের সমান সুযোগ ভোগ করতে পারে।
(5) প্রতিনিধি নির্বাচন: বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ রাষ্ট্রই আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহৎ হওয়ায় জনসাধারণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর জনগণ সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। জনপ্রতিনিধিরাই শাসনক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
(6) গণঅংশগ্রহণ: গণতন্ত্রে নাগরিকরা কখনও সরাসরি আবার কখনওবা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
2. গণতন্ত্র কাকে বলে? কেন বর্তমানে এটিকে সবথেকে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়? ** [HS Model Question 24]
অথবা, গণতন্ত্রের পক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো।
উত্তর সংজ্ঞা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে গণতন্ত্রের অর্থের ব্যাখ্যা করেছেন। গণতন্ত্র শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos থেকে Demos-এর অর্থ জনগণ এবং Kratos-র অর্থ কর্তৃত্ব বা শাসন বা ক্ষমতা। অতএব Democracy বা গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন বা জনগণের কর্তৃত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেছেন, গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্র বলতে রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে সকলের সমানাধিকারে স্বীকৃতিকে বুঝিয়েছেন।
গণতন্ত্রের পক্ষে যুক্তিসমূহ: জন স্টুয়ার্ট মিল, ব্যোম, টক্কিল, স্পেনসার, ল্যাস্কি, লর্ড ব্রাইস, বার্কার প্রমুখের মতে, সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনতন্ত্র হল গণতন্ত্র। গণতন্ত্র সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য কারণ-
1. গণসার্বভৌমত্বের রূপায়ণ: গণতন্ত্রে গণসার্বভৌমত্বের নীতি, বাস্তবে রূপায়িত হয়। জনগণ এখানে সমগ্র রাষ্ট্রক্ষমতার মূল উৎস। কোন্ দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে, অযোগ্য ও জনস্বার্থবিরোধী রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রগুলিতে সিদ্ধান্তগ্রহণের দায়ভার একমাত্র গণতন্ত্রেই জনগণের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকে।
2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত: গণতন্ত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফাইনার-এর মতে, একমাত্র গণতন্ত্রে আইনের যথাবিহিত পদ্ধতি ছাড়া ব্যক্তিজীবনে হস্তক্ষেপ ঘটানো যায় না।
3. স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: গণতন্ত্রের একটি বড়ো গুণ হল, এখানে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের অস্তিত্ব বজায় থাকে। কারণ বিচার বিভাগ, আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে বিচারকার্য সম্পাদন করে। সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা ও নাগরিক অধিকারের সংরক্ষণের বিষয়ে বিচার বিভাগ গণতন্ত্রে এক উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে।
4. স্বৈরাচারিতা রোধ: গণতন্ত্রে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত বলে এখানে শাসকগোষ্ঠী স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে না। কোনো শাসকগোষ্ঠী যদি জনগণের মতামতের বিরুদ্ধাচরণ করে তবে, পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীগুলি নিজেদের রাজনৈতিক ভাগ্যের উপর বিপর্যয় ডেকে আনতে চায় না।
5. সার্বিক কল্যাণসাধন: গণতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অধিকারী একমাত্র জনগণই। তাই জনগণের সার্বিক কল্যাণসাধনই হল গণতান্ত্রিক সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।
6. স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার অবাধ সুযোগ রয়েছে।
শাসনকার্যে অংশগ্রহণের ফলে জনগণ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে।
উক্ত কারণগুলির জন্যই বর্তমানে গণতন্ত্র সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
3. গণতন্ত্রের বিপক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ফ্যাগুয়ে, লেকি, নিৎসে, হল, কার্লাইল, হেনরি মেইন প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গণতন্ত্রের বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। গণতন্ত্রের বিপক্ষে যুক্তিসমূহ নিম্নরূপ-
1. নৈতিকতার অবনতি ঘটায়: সমালোচকরা মনে করেন গণতন্ত্রে যেহেতু জনগণ অজ্ঞ ও অশিক্ষিত থাকে, তাই ধূর্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর সুযোগ নিয়ে শাসনক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে নিজেদের কাজে লাগায়। এর ফলে নির্বাচনের সময় বলপূর্বক বুথ দখল, উৎকোচ গ্রহণ ও প্রদান, কারচুপি ইত্যাদি দেখা যায়।
2. গুণের তুলনায় সংখ্যার উপর গুরুত্ব: গণতন্ত্র মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। সমালোচকরা বলেন, এখানে গুণের তুলনায় সংখ্যার প্রাধান্য স্বীকৃত হয়। উৎকর্ষতার কোনো মূল্য গণতন্ত্রে পাওয়া যায় না।
3. ব্যয়বহুল: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমালোচকরা একটি ব্যয়বহুল ব্যবস্থা বলে অভিহিত করেন। গণতন্ত্রে দেশের সাধারণ নির্বাচনগুলিতে সরকারকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়, তা অনেকসময় অপচয়ের নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়।
4. সংখ্যালঘু শ্রেণির স্বার্থ উপেক্ষিত: গণতন্ত্র মানেই সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন, তাই সংখ্যালঘুরা এখানে উপেক্ষিত হন। আইনসভায় সংখ্যালঘুরা তাঁদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন না, এর ফলে সংখ্যালঘু শ্রেণি নিজেদের স্বার্থরক্ষা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
5. জীববিজ্ঞানীদের সমালোচনা: জীববিজ্ঞানীরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। প্রেস্কট হল এবং অ্যালেন আয়ার্ল্যান্ড-এর মতো গণতন্ত্রে 'সব মানুষ সমান' জীববিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বকে সত্যের অপলাপ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের মতে, জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে গুণগত পার্থক্য রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মতাদর্শে স্বীকৃত হয় না।
6. সততা ও যোগ্যতার স্থান নেই: বস্তুতপক্ষে, দলীয় রাজনীতির স্বার্থসিদ্ধ সংকীর্ণ চেহারা দেখে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনের রাজনৈতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। অনেকসময় আবার দলীয় প্রথার কুফলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে নেমেও পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হন। ফলে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
7. নিম্নস্তরের নেতৃত্ব: গণতন্ত্রে অযোগ্য নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করায়, গণতন্ত্রের মানও নিম্ন হয়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন।
উপসংহার: বহু বিরুদ্ধ সমালোচনা সত্ত্বেও এটা বলা যায় যে, আজও গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্র মূর্খের শাসন নয়। বিচ্যুতি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজও বিশ্বের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা।
4. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলতে কী বোঝো? এইরূপ গণতন্ত্রের গুণ বা সুবিধাগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র: যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সমস্ত নাগরিকরা মিলিত হয়ে দেশের শাসনকার্য পরিচালনা তথা আইন প্রণয়ন, শাসননীতি নির্ধারণ, আয়-ব্যয় মঞ্জুর, যুদ্ধ ও শান্তি সম্বন্ধে সিদ্ধান্তগ্রহণ ও বিচারকার্য সম্পাদন করে, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়। সমস্ত নাগরিকই রাষ্ট্রকার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করায় এই শাসনব্যবস্থাকে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্রও বলা হয়। মূলত ক্ষুদ্রায়তন রাষ্ট্র ছাড়া প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রাচীন রোম ও গ্রিসের ক্ষুদ্র নগররাষ্ট্রগুলিতে এই শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।
প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের গুণ বা সুবিধা:
1. জনগণই শক্তির প্রয়োগ ও ব্যবহারের অধিকারী: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সর্বপ্রধান সুবিধা হল, জনসাধারণ বাস্তবে সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। জনসাধারণের
ইচ্ছা ও মতামতের ভিত্তিতেই সমগ্র শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র সহজ ও সরলঃ প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসন সহজ ও সরল এবং কম ব্যয়বহুল এইরূপ গণতন্ত্রে জনগণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তগ্রহণ করে।
3. নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে। এর ফলে তারা দেশের সমস্যা সম্বন্ধে অবহিত হয় এবং তা সমাধানের ব্যাপারে একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। তাই নাগরিকদের শিক্ষা ও রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
4. দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে শাসক ও শাসিতের সরাসরি সম্পর্ক থাকার ফলে যে-কোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ করা সম্ভব হয়। ফলে এইরূপ গণতন্ত্রকে অনেকে জরুরি অবস্থার উপযোগী বলে মনে করেন।
5. সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সকল স্তরে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে বলে, সরকার জনদরদি ও জনকল্যাণকামী ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে সরকারের স্বৈরাচারিতা জনগণের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
6. স্বল্পব্যয়: এরূপ শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হয় না বলে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মতো ব্যয়বহুল নয়।
7. আইন প্রণয়ন পান্নতি: প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে আইন প্রণয়ন পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির হয়ে থাকে। এরূপ গণতন্ত্রে জনগণ নির্দিষ্ট একটি স্থানে সমবেত হয়ে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ফলে সময়ের অপচয়ও ঘটে না।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র একেবারে অচল, তবুও আধুনিক গণতন্ত্রের আদিরূপ হিসেবে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না।
5. প্রতিনিধিত্বমূলক বা পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? এইরূপ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। 2+4=6 [Jodhpur Park Girls' High School '17]
উত্তরঃ
প্রতিনিধিত্বমূলক বা পরোক্ষ গণতন্ত্র : বর্তমানে অধিকাংশ রাষ্ট্রে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে। এরূপ শাসনব্যবসথায় জনসাধারণ প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে না, বরং জনগণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে। এই জনপ্রতিনিধিরাই দেশ শাসন করে। তাই পরোক্ষ গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলা হয়। পরোক্ষ গণতন্ত্রেও জনসাধারণই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী কিন্তু তাদের তরফে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রতিনিধিত্বমূলক বা পরোক্ষ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
1. জনসাধারণের কাছে দায়িত্বশীল: যেহেতু পরোক্ষ গণতন্ত্রে সরকার পরিচালিত হয় জনসাধারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেহেতু জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাজে জন্য জনসাধারণের নিকট দায়িত্বশীল থাকেন।
2. প্রত্যেকটি শাসনব্যবসথার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য: পরোক্ষ গণতন্ত্র এককেন্দ্রিক বা যুক্তরাষ্ট্রীয়, রাষ্ট্রপতিশাসিত বা সংসদীয় সবরকম শাসনব্যবস্থাতেই প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে।
3. সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত : পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত।
4. রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি: পরোক্ষ গণতন্ত্রে দলীয় ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে। এইরূপ গণতন্ত্র বর্তমানে দলীয় গণতন্ত্র বা সরকারে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বকে অপরিহার্য হিসেবে ধরা হয়।
5. প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন ব্যবসথা: এইরূপ গণতন্ত্রে নির্বাচন ব্যবস্থা অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়। এর ফলে নির্বাচন প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থীদের সমর্থকগণ সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করতে পারে। তাছাড়া ভোটদাতারা যাতে নিজেদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তার জন্য এই আইনগত ব্যবস্থা দেখতে পাওয়া যায়।
মূল্যায়ন: উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে এই ধারণা স্পষ্ট যে, এইরূপ গণতন্ত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ আইনসভায় মিলিত হয়ে আইন প্রণয়ন করে। তাই বর্তমানে বৃহদায়তন রাষ্ট্রের পক্ষে এই ধরনের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
6. পরোক্ষ গণতন্ত্রের সপক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো।*
অথবা, পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সুবিধাগুলি আলোচনা করো। [Jodhpur Park Girls' High School '17]
উত্তরঃ পরোক্ষ গণতন্ত্রের সপক্ষে যুক্তি বা সুবিধাসমূহ:
1. গণসার্বভৌমিকতা: এইরূপ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গণসার্বভৌমিকতা স্বীকৃত। এই নীতির স্বীকৃতির ফলে রাষ্ট্রের মধ্যে কোন্ দল সরকার গঠন করবে, সার্বিক, প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে তা জনগণই ঠিক করে দেয়।
2. শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক: পরোক্ষ গণতন্ত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণের সমর্থনে শাসক নির্বাচিত হয়। আবার শাসিতের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য শাসক জনগণের অধিকার ও আত্মরক্ষাকে সুনিশ্চিত করে।
3. স্বৈরাচার প্রতিরোধ: প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে না, কারণ পরবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থাকে। এর ফলে সরকার জনমত বিরোধী কোনোপ্রকার আইন চাপিয়ে দিতে পারে না বা কার্যসম্পাদন করতে পারে না।
4. আইনের অনুশাসন: এরূপ গণতন্ত্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত। আইনের যথাবিহিত পদ্ধতি ছাড়া ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না। এ ছাড়া আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং আইন সকলের ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য। এই কারণেই সরকার বা শাসক তার সম্পাদিত কার্যাবলির জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
5. বিদ্রোহ বা বিপ্লবের সম্ভাবনা কম: এই ধরনের শাসনব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সহজে শান্তিপূর্ণ পথে শাসক পরিবর্তন করা সম্ভব। এজন্য পরোক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিপ্লবের সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
6. সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব: পরোক্ষ গণতন্ত্রে যে, রাজনৈতিক দল শাসক হিসেবে সরকার গঠন করে, তারা হল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল। অপরদিকে, বিরোধী সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দলের গুরুত্বও এইরূপ গণতন্ত্রে লক্ষ করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই এইরূপ গণতন্ত্রে উভয়পক্ষেরই গুরুত্ব দেখতে পাওয়া যায়।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায়, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সুযোগসুবিধা ও সুফলগুলি আরও বেশি করে ভোগ করা সম্ভব হবে যদি নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উভয়পক্ষই নিজ নিজ দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করে থাকে। এককথায় গণতন্ত্রের সাফল্যের মাধ্যমেই তার সার্থকতা যথার্থ হয়ে ওঠে।
7. পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিপক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো।
অথবা, পরোক্ষ গণতন্ত্রের অসুবিধাগুলি আলোচনা করো।* (Egra 1.1. High School (HS) '19)
উত্তরঃ পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিপক্ষে যুক্তিসমূহ বা অসুবিধা:
1. গণতন্ত্র ধ্বংসের সম্মুখীন হয়: পরোক্ষ গণতন্ত্রে ব্যক্তি বা নাগরিকের গুণ অপেক্ষা সংখ্যাই বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এই ধরনের শাসনব্যবস্থায় অযোগ্যতা সত্ত্বেও মিথ্যাচারী ও বাষ্পটু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই সাফল্য পান। তারা প্রতিশ্রুতি অনুসারে কাজ না করার ফলে গণতন্ত্র ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের পরিবর্তে কতিপয় নেতা-মন্ত্রীর স্বপ্নপূরণ হয়।
2. জরুরি পরিস্থিতিতে পরোক্ষ গণতন্ত্র কার্যকরনয়: পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনমতের গুরুত্ব থাকায় যে-কোনো বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কালবিলম্ব হয়, তার ফলে জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগ্রহণ এই ধরনের শাসনব্যবস্থায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
3. আমলাতান্ত্রিক শাসনের কুফল: এইরূপ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক শাসনের কুফল ও জটিলতা চোখে পড়ে। অজ্ঞ ও অশিক্ষিতের শাসন, সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাব, সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বেচ্ছাচারিতা, স্থায়িত্বের অভাব ইত্যাদি বিষয় এই ব্যবস্থার সাফল্যের পথে প্রধান অন্তরায়।
4. সুষ্ঠু ভোটপদ্ধতির অনুপস্থিতি: অনেকসময় নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে সমর্থন জানানোর জন্য জনগণকে বাধ্য করা হয় অথবা উক্ত দলটিকে ক্ষমতাসীন করার উদ্দেশ্যে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে কারচুপি বা দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়, যাতে এবারের নির্বাচনেও একই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব বহাল থাকে।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায়, পরোক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অসুবিধা লক্ষ করা গেলেও, গণতন্ত্রের সাফল্যের ক্ষেত্রে এইরূপ গণতন্ত্রের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
8. প্রত্য়ক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের পার্থক্য়গুলি লেখো।
উঃ প্রত্য়ক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের পার্থক্য়গুলি হল-
9. গণতন্ত্র কাকে বলে? গণতন্ত্রের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি ব্যাখ্যা করো। [WBCHSE (XI) '22, '15, '06]
উত্তরঃ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে গণতন্ত্রের অর্থের ব্যাখ্যা করেছেন। গণতন্ত্র শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos থেকে। Demos-এর অর্থ জনগণ এবং Kratos-র অর্থ কর্তৃত্ব বা শাসন বা ক্ষমতা। অতএব Democracy বা গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন বা জনগণের কর্তৃত্ব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেছেন, গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্র বলতে রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগে সকলের সমানাধিকারের স্বীকৃতিকে বুঝিয়েছেন।
গণতন্ত্রের সুবিধা: গণতন্ত্রকে শ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা বলা হয়, কারণ
1. সাম্য ও স্বাধীনতা: এই শাসনব্যবস্থা সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। সমমর্যাদার আদর্শ থেকেই সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার গণতন্ত্রের স্বীকৃত নীতি। তাই ব্যক্তিস্বাধীনতা গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র।
2. দায়িত্বশীলতা: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হল শাসিতের কাছে শাসকের দায়িত্বশীলতা। সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রীপরিষদ জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের সম্পাদিত কাজের জন্য দায়িত্বশীল থাকে এবং জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
3. রাজনৈতিক চেতনা ও দেশপ্রেম: সাধারণ নির্বাচন, উপনির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলির সভাসমিতি, সমাবেশ, পত্রপত্রিকায় জাতীয় সমস্যা সম্বন্ধে আলোচনা ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করে, যা নাগরিকদের রাজনৈতিক চেতনা উন্মেষে সহায়তা করে।
4. স্থায়িত্ব: জনগণের সম্মতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এরূপ শাসনব্যবস্থায় সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়ভার গ্রহণ করে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই দেশের সরকারের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জনগণের স্বার্থরক্ষা করতে পারলেই শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
গণতন্ত্রের অসুবিধা: তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্রের সপক্ষে যুক্তি থাকলেও, বাস্তবে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে অনেক ত্রুটি দেখা যায়-
1. গণতন্ত্র হল মুষ্টিমেয়র শাসন: গণতন্ত্রে ক্ষমতা প্রকৃতপক্ষে কয়েকজন মুষ্টিমেয় বাগ্মী নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। তাছাড়া জনগণ বা ভোটদাতারা যে বাগ্মী নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে আত্মস্বার্থে ভুল নেতাদের নির্বাচন করবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
2. অজ্ঞ ও অমোগ্যদের শাসন: আধুনিক পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনসাধারণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে শাসনের দায়িত্বভার প্রতিনিধিদের উপর অর্পণ করে। কিন্তু যেহেতু বেশিরভাগ জনগণই অজ্ঞ ও মূর্খ, সেহেতু তারা অযোগ্য ব্যক্তিদেরই প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে। এ প্রসঙ্গে কার্লাইল ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে মূর্খদের জন্য, মূর্খদের দ্বারা, মূর্খদের শাসন।
3. দলীয় ব্যবসথার কুফল: আধুনিক গণতন্ত্রে দলীয় স্বার্থেই শাসনকার্য পরিচালিত হয়। ক্ষমতা বজায় রাখা বা দখল করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘুষ নেওয়া, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ বা গোষ্ঠীস্বার্থকে উৎসাহিত করে, যা গণতন্ত্রকে বিকৃত করে তোলে।
4. আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শাসক হিসেবে নিযুক্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিশেষ থাকে না। তাই তারা তাদের বিভাগীয় কাজকর্মের জন্য আমলাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে এরূপ শাসনব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।
মূল্যায়ন: গণতন্ত্রের উপরোক্ত সুবিধা-অসুবিধা বা গুণ-ত্রুটি বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র অন্যান্য শাসনব্যবস্থার তুলনায় শ্রেষ্ঠতর শাসনব্যবস্থা।
10. গণতন্ত্র কাকে বলে? এর বিভিন্ন রূপগুলি আলোচনা করো। 2+4=6 [WBCHSE (XI) '11]
উত্তরঃ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা: 2 নং প্রশ্নোত্তরের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা অংশটি দ্রষ্টব্য।
1. গণতন্ত্রের বিভিন্ন রূপ: অধ্যাপক গার্নার সরকার গঠনের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রকে দু-ভাগে ভাগ করেছেন, যথা-
2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের রূপগুলির মধ্যে; বা প্রাচীন রূপটি হল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সমস্ত নাগরিকরা প্রত্যক্ষভাবে মিলিত হয়ে দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democacy) বলা হয়। বর্তমানে কেবলমাত্র সুইটজারল্যান্ডে এইরূপ গণতন্ত্র দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের শাসনব্যবস্থাকে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্র (Participatory Democracy)-ও বলা হয়।
পরোক্ষ গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের অন্যতম রূপ হল পরোক্ষ গণতন্ত্র। পরোক্ষ গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণ প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে না। জনগণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে। এই জনপ্রতিনিধিরাই দেশ শাসন করে। তাই পরোক্ষ গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Representative Democracy) বলা হয়। পরোক্ষ গণতন্ত্র দেখতে পাওয়া যায়- গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি রাষ্ট্রে।
সরকার পরিচালনার দৃষ্টিকোণ থেকেও গণতন্ত্রকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
উদারনৈতিক গণতন্ত্র: উনিশ শতকে উদারনীতিবাদ এবং গণতন্ত্র এই দুটি ধারণার সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের (Liberal Democracy) উদ্ভব ঘটে, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। উদারনৈতিক গণতন্ত্র গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশে দেখতে পাওয়া যায়।
সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র (Socialist Democracy) গড়ে ওঠে। সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রকে সমাজতন্ত্র বা সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী চিন, কিউবায় সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র বিদ্যমান।
মূল্যায়ন: গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও বিভিন্ন রূপগুলির আলোচনা থেকে এই ধারণা স্পষ্ট যে, গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের শাসন। যদিও এখানে সংখ্যালঘু জনগণ নিজ নিজ কৌশলে সংখ্যাগরিষ্ঠকে⑤ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
11. গণতন্ত্রের সাফল্যের শর্তগুলি কী কী?
উত্তরঃ আধুনিক যুগে গণতন্ত্র হল এক আদর্শ শাসনব্যবস্থা। তবে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে বা গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রয়োজন। সাফল্যের শর্তগুলি হল নিম্নরূপ-
1. সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা: যেহেতু রাষ্ট্রীয় কার্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণকে অংশগ্রহণ করতে হয় সেহেতু তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতনতা থাকা দরকার, যা সম্ভব একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে। জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছেন, সর্বজনীন ভোটাধিকারের পূর্বে সর্বজনীন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন যে, জনগণ শিক্ষিত না হলে সুচতুর রাজনীতিবিদরা তাদের ভ্রান্ত পথে চালিত করতে সক্ষম হবে। অতএব গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সর্বজনীন শিক্ষার প্রবর্তন।
2. পরমতসহিষুতা ও সংবাদপত্রের ভূমিকা : গণতন্ত্রে সকলেরই নিজস্ব মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সংবাদপত্র যদি বিত্তশালী শ্রেণির কুক্ষিগত হয় এবং সাধারণ মানুষের বা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মতামত নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ না করে, তাহলে আইনগতভাবে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও বাস্তবে সেই স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে।
3. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলেও গণতন্ত্রে জনগণ সঠিক বিচার পাবে না। তাই গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার । বিভাগ থাকাটা জরুরি বলে মনে করা হয়।
4. লিখিত সংবিধান: গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে একটি লিখিত সংবিধান থাকা উচিত, কারণ সংবিধানে লিখিতভাবে সরকারের ক্ষমতা নির্দিষ্ট থাকলে সরকার স্বেচ্ছামূলকভাবে কোনো কাজ করতে পারে না।
5. ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ: গণতন্ত্রে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার। কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় অঞ্চল পর্যন্ত ক্ষমতা বণ্টন করলে জনসাধারণ রাজনৈতিক কাজে ব্যাপকভাবে লিপ্ত হতে পারে এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে জনগণের - রাজনৈতিক চেতনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
6. অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা: অধ্যাপক ল্যাস্কি-র এমতে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারগুলি স্বীকৃত হলে গণতন্ত্রের সাফল্য আসে না, তাঁর মতে, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ছাড়া রাজনৈতিক গণতন্ত্র মূল্যহীন। যে সমাজে দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির নিয়ন্ত্রণাধীন সেখানে জনগণ কখনও সুষ্ঠুভাবে গণতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে পারে না।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, গণতন্ত্র সেই সমাজেই সফল হতে পারে যে সমাজে পারস্পরিক আলোচনা, স্বাধীনভাবে মত বিনিময়, বৈষম্যের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বশীলতার উপাদান উপস্থিত থাকে।
12. কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার উদ্ভবের পশ্চাতে মূল কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উঃ শুভর কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা উদ্ভবের পশ্চাতে কারণসমূহ: কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা উদ্ভবের পশ্চাতে বিবিধ কারণগুলিকে চিহ্নিত করা যায়। এগুলি হল-
(1) রাজনৈতিক অসহায়িত্ব এবং সংকট: দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব যথা- অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ বা গণতন্ত্রে উত্তরণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা ইত্যাদি পরিস্থিতিতে কর্তৃত্ববাদী নেতা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা এবং স্থায়িত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে।
(2) সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক কারক: যেসকল সমাজে পূর্বেই কর্তৃত্ববাদের ইতিহাস, কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইত্যাদি উপস্থিত রয়েছে অথবা ক্ষমতা একজন শক্তিশালী কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত থাকে, সেই সকল সমাজ কর্তৃত্ববাদী শাসন গড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রদান করে।
(3) অর্থনৈতিক দুর্দশা: দেশে অত্যাধিক বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং দারিদ্র্য জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার করে। বিদ্যমান শাসক বা সরকার আর্থিক উন্নয়ন ঘটাতে ব্যর্থ হলে জনগণ এমন এক শক্তিশালী নেতার সন্ধান করে, যিনি আর্থিক সমস্যা দূরীকরণে সক্ষম হবে। এরূপ পরিস্থিতিই শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের উত্থানে সহায়তা করে।
(4) দুর্বল গণতান্ত্রিক শাসন: দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আইনের অনুশাসনের অভাব, নির্বাচনে কারচুপি ইত্যাদি গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থাকে ভঙ্গুর করে তোলে। ফলস্বরূপ, সহজেই কর্তৃত্ববাদী নেতারা দুর্নীতি দমন এবং শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।
(5) বাহ্যিক সমর্থন: অনেকসময় কর্তৃত্ববাদী শাসক বহিঃরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাহায্য, সামরিক সহায়তা বা কূটনৈতিক স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনকে বৈধতা প্রদান করে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে।
(6) জাতীয়তাবাদী আবেগের ব্যবহার: কর্তৃত্ববাদী নেতারা প্রায়শই জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে জাতির রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করে। তারা জনগণকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি প্রদানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করে থাকেন।
(7) সামরিক সমর্থন: বেশ কিছু ক্ষেত্রে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা দেশের সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে বা মদতে ক্ষমতা অর্জন করে। এক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বা সম্ভাব্য হুমকি দমনে সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
উক্ত কারণগুলি সম্মিলিতভাবে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার উত্থানে ভূমিকা পালন করেছিল।
13. কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বলতে কী বোঝো? এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উঃ
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা: কর্তৃত্ববাদ এমন এক মতাদর্শ, যেখানে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও কর্মকান্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বা কর্তৃপক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্যকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। চরম ক্ষমতার উপর শাসকের নিরঙ্কুশ আধিপত্য করায়ত্ত করা এবং সেই ক্ষমতাকে রক্ষা করাকেই কর্তৃত্ববাদ বলে।
কর্তৃত্ববাদের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ: কর্তৃত্ববাদের কতকগুলি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এগুলি হল-
1. কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব: কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাগুলি একজন একক শাসক (স্বৈরশাসক), অভিজাত গোষ্ঠী বা এলিট শাসক, সামরিক জুন্টা বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত হয় অর্থাৎ যাবতীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একজন শাসক বা শাসকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
2. সীমিত রাজনৈতিক বহুত্ববাদ: কর্তৃত্ববাদে কোনোরকম রাজনৈতিক বিরোধিতার অধিকার অস্বীকৃত এবং গণতন্ত্রের মতো এখানে বহুদল ও বহুমতের কোনো স্থান নেই। তার পরিবর্তে যে সংগঠনগুলি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানায়, সেই রাজনৈতিক বিরোধিতাকে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়, অথবা সহযোজিত করা হয়, নতুবা দমন করা হয়। এমনকি শাসক নিজের ক্ষমতাকে বজায় রাখতে পৌর সমাজ ও বিরোধী দলগুলিকে নিষিদ্ধ করতে পারে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
3. দমনপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণঃ কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিরোধী মতামতকে দমন করার লক্ষ্যে দমনপীড়ন, সেন্সরশিপ, ভীতি প্রদর্শন এবং নজরদারি ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিপক্ষদের, সাংবাদিকদের প্রায়শই নিগ্রহ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হিংসা, নির্বিচারে আটক ও আইনি নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়।
4. নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম: কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় গণমাধ্যম বা মিডিয়া সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকে। জনমত গঠন, শাসনের বিষয়সূচি প্রচার এবং ভিন্নমতের সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এবং প্রচারণাকে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে - কর্তৃত্ববাদী নেতারা প্রায়শই সেন্সরশিপ, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
5. দুর্বল আইনের অনুশাসনঃ কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলিতে আইনি কাঠামো সাধারণত দুর্বল হয় এবং আইনের অনুশাসন অভিজাত শাসকশ্রেণির স্বার্থের অধীনস্থ হয় এবং আইন ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলি ন্যায়, সাম্য ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদী শাসনের কার্যকলাপকে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করে।
6. সীমিত নাগরিক স্বাধীনতা: কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকদের বাক্ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভাসমিতি ও সংঘ গঠনের মতো পৌর অধিকারগুলিকে সংকুচিত করা হয়।
14. কর্তৃত্ববাদের সুবিধা বা গুণাবলি আলোচনা করো।
উঃ কর্তৃত্ববাদের সুবিধা বা গুণ: কর্তৃত্ববাদী সরকার একচেটিয়া ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য বহুল সমালোচিত হলেও কর্তৃত্ববাদী সরকারের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, যেগুলিকে অস্বীকার করা যায় না। যথা-
1. দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণের সক্ষমতা: দেশে কোনোরকম জরুরি অথবা আপৎকালীন অবস্থা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সংকটজনক পরিস্থিতি উপস্থিত হলে, তা মোকাবিলা করার জন্য কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ করতে সক্ষম। কারণ, এরূপ শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা কেবল একজন শাসক বা মুষ্টিমেয় শাসকশ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকায় দ্রুত ও সহজেই সিদ্ধান্তগ্রহণের উপযোগী।
2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় যেহেতু বিরোধী মতের অস্তিত্ব থাকে না, নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না, সেহেতু দ্রুত এবং ঘনঘন সরকার পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে।
3. দ্রুত আর্থিক উন্নয়ন: কর্তৃত্ববাদী প্রশাসন একক নেতৃত্বের পরিচালনায় চালিত হয় বলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক বাধা বা জটিলতা থাকে না। এর ফলে দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো এবং রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
4. সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা: কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে কর্তৃত্ববাদী সরকার আইনগুলি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়। এর ফলে একদিকে যেমন সমাজে সম্ভাব্য অপরাধ হ্রাস করা সম্ভব হয়, তেমনি অন্যদিকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
5. জাতীয় নিরাপত্তার উপযোগী: কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় বিরোধী মতামত, সরকারের অন্যান্য শাখার অনুমোদন ছাড়াই অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় নিরাপত্তাজনিত হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম।
6. ব্যয়ভার হ্রাস: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মতো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না বলে নির্বাচনি ব্যয় হ্রাস করা যায়।
উক্ত সুবিধাগুলি সত্ত্বেও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার দোষগুলিই বেশি। ফলে এই শাসনব্যবস্থা কাম্য নয়।
15. কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অসুবিধা বা ত্রুটিগুলি ব্যাখ্যা করো। **
উঃ কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অসুবিধা বা ত্রুটি: কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার একাধিক ত্রুটি বিদ্যমান। এগুলি হল-
1. স্বাধীনতার অভাব: কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় জনগণের পৌর ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা যথা-মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমবেত হওয়ার অধিকার ইত্যাদি স্বীকৃত নয়। এরূপ শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক পরিমাণ নাগরিকদের মানবাধিকারও লঙ্ঘিত হয়। বিশেষত, বিরোধী নেতৃবর্গ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিবাদীরা হয়রানি ও ভীতির সম্মুখীন হয়, যা ব্যক্তির জীবনের অধিকারকে লঙ্ঘন করে।
2. দুর্নীতি: কর্তৃত্ববাদে শাসকের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় শাসককে তাদের কাজকর্মের জন্য জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয় না, যা দুর্নীতির সুযোগকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।
3. দ্বৈরাচারের আশঙ্কাঃ কর্তৃত্ববাদে কোনো বিরোধী দল বা বিরোধী শক্তির অস্তিত্ব না থাকায় এই ব্যবস্থায় শাসকের যথেচ্ছভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে।
4. উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতার অভাবঃ কর্তৃত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশকে দমিয়ে রাখার কারণে নাগরিকদের মধ্যে নতুন নতুন উদ্ভাবনীমূলক চিন্তা প্রকাশের ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটার সুযোগ খুবই কম। এরূপ পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিক, প্রাযুক্তিক অগ্রগতি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করে।
5. সামাজিক অস্থিরতাঃ কর্তৃত্ববাদে যেভাবে ভিন্নমতকে দমন করা হয় এবং শাসকের মতকে বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার ফলে জনগণের মনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এমনকি জনগণের মধ্যে বৈপ্লবিক চেতনা এবং প্রতিরোধের জন্ম দিতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা, প্রতিবাদ এমনকি বিপ্লবের পথকে প্রশস্ত করে।
(6) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দমন: কর্তৃত্ববাদী শাসনগুলিতে প্রায়ই সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, ধর্মীয় অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত জীবনধারার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়। এই শাসনব্যবস্থা শৈল্পি সাংস্কৃতিক সমসত্ত্বকরণ-এর উপর গুরুত্ব দেয় যা সাংস্কৃতিক স্থবিরতার জন্ম দেয়। অভিব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে দমন করে
উক্ত ত্রুটিগুলি সত্ত্বেও দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ, জাতীয় নিরাপত্তাবিধানের ক্ষেত্রে কর্তৃত্ববাদের উপযোগীতাকে অস্বীকার করা যায় না।
16. সর্বগ্রাসীবাদের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। **
উঃ সর্বগ্রাসীবাদের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ: সর্বগ্রাসীবাদী সরকার বা শাসনব্যবস্থার কতকগুলি মৌলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলি হল
1. সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা: সর্বগ্রাসীবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ। শুধুমাত্র আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ নয় বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের ব্যক্তিগত জীবন, স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশ, ধর্মাচরণ, জীবনযাপন এবং সমাজজীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা অনুপস্থিত এবং রাষ্ট্রই ব্যক্তির ভালো-সবকিছুর ঊর্ধ্বে। মন্দের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। তাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা
2. আইনের অনুশাসনের অনুপসিথতি: সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রে শাসকের নির্দেশই আইন। ফলে আইনের অনুশাসনের উপস্থিতি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এইরূপ শাসনব্যবস্থায় আইন দমনপীড়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতিঃ সর্বাত্মকবাদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং কোনোরকম গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয় না। এ কারণেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই জনগণ দেশের রাজনৈতিক কার্যে বা শাসনকার্যে অংশ নিতে পারে না। জনগণ কোনোরূপ ভোটাধিকারের ক্ষমতা ভোগ করে না।
4. নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম: সর্বগ্রাসীবাদে গণমাধ্যম অর্থাৎ সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। পরিবর্তে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অধীনে থেকে কাজ করে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় গণমাধ্যমের প্রধান কাজ হল শাসকের সপক্ষে মতপ্রচার করা।
5. পুলিশি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস: রাষ্ট্রকে জনকল্যাণকামী করে তোলার পরিবর্তে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এখানে বিরোধীদের দমন এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং জনগণের উপর নজরদারি চালানোর জন্য গুপ্তচর বাহিনী নিয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, নির্বিচারে গ্রেফতার, আটক, নির্যাতন, দমনপীড়ন ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপ চালানো হয়।
6. অভিমানর তত্ত্ব: সর্বগ্রাসীবাদে রাষ্ট্রনায়কের এক অতিমানবীয়ও ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়। তিনিই সমগ্র জাতির ভাগ্যনিয়ন্তা। তাকে দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব এবং জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। ইতালিতে মুসোলিনি, জার্মানিতে হিটলারের এমন এক অতিমানব ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিল।
17. ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদ কাকে বলে? ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।
উঃ
ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ: ফ্যাসিবাদ একটি অতি-জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ, যা একজন স্বৈরী নেতা ও তাঁর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে এগুলি হল-
1. অনমনীয় মতাদর্শ : ফ্যাসিবাদ সর্বদা উগ্র জাতীয়তাদের উপর গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রীয় বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এক্ষেত্রে শাসক জাতিগত বিশুদ্ধতার ধারণা প্রচার করে থাকেন। যেমন- হিটলারের নাৎসি দল জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে জার্মান জাতির বিশুদ্ধ রক্তের তত্ত্ব প্রচার করে বলেছিলেন, জার্মানরা হল আর্য জাতিভুক্ত। তারাই বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী, তাই জার্মান হল শ্রেষ্ঠ জাতি।
2. নেতৃত্ব: সর্বগ্রাসী রাষ্ট্র সর্বদা একজন ক্ষমতাশালী সম্মোহনী নেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে। এরূপ শাসনব্যবস্থায় দেশের নেতার হাতেই যাবতীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং তিনিই দেশের মানুষের বিশ্বাস, মতাদর্শ, শিক্ষা ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
3. অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: ফ্যাসিবাদী সরকার সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। যাবতীয় শিল্প রাষ্ট্রের অধীনে গড়ে ওঠে, ব্যক্তিগত উদ্যোগকে সীমিত করে রাখা হয়, কৃষিক্ষেত্রে সমষ্টিকরণে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং দেশের যাবতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা শাসকের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে।
4. প্রচারণা এবং সেন্সরশিপ: সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রে শাসক, দেশের সকল গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেন্সরশিপ আরোপ করে। রাষ্ট্রীয় শাসককে মহিমান্বিত করার জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে, পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রচারণা রোধ করে সরকার জনমত ও জনআচরণকে প্রভাবিত করে।
5. দমনপীড়ন: রাষ্ট্র বিরোধীদের নির্মূল করার জন্য এবং দমন করার জন্য গোপনে পুলিশি অত্যাচার চালায়, এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয়। মিথ্যা মামলায় বিরোধী মত প্রকাশকারীদের কারাবন্দি করে রাখা, শারীরিক অত্যাচার করা, গণমৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জার্মানিতে হিটলার-এর গুপ্তচর বাহিনীর নাম ছিল গেস্টাপো এবং ইতালিতে মুসোলিনি-র গুপ্তচর বাহিনীর নাম ছিল কালো কুর্তা।
18. সর্বগ্রাসীবাদের সুবিধা বা গুণাবলি আলোচনা করো। **
উঃ সর্বগ্রাসীবাদের সুবিধা বা গুণ: সর্বগ্রাসীবাদী সরকার সমাজের উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করে - এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি দিকের উপর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। এই শাসনব্যবস্থার কতকগুলি সুবিধা বা গুণ হল-
1. সংকটকালীন সময়ের উপযোগী: সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে সরকারি নীতি প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব হয় না। ফলে প্রশাসনিক সমস্যার নিষ্পত্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ অথবা বৈদেশিক আক্রমণ ইত্যাদি সংকট বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কোনোরূপ বিতর্ক বা সমঝোতা ছাড়াই ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়।
2. আর্থিক বিকাশে সহায়ক: সারা দেশের জন্য একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকার ফলে, শাসক এককভাবে উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, বলপূর্বক কৃষির সমষ্টিকরণের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক বিকাশের পথকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে স্তালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে এরূপ নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি গড়ে তুলেছিলেন।
3. একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণঃ সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের প্রশাসনে সমগ্র দেশে একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ক্ষীণ উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।
4. সামাজিক শৃঙ্খলা ও কঠোর অনুশাসন: সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ লক্ষ করা যায় বলে এরূপ সমাজব্যবস্থায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না। এজন্যই সর্বগ্রাসী শাসনব্যবস্থায় একটি স্থিতিশীল এবং অনুমানযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা যায়।
5. জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় উপযোগী: সর্বাত্মকবাদে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনেতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য একটি শক্তিশালী মতাদর্শ গড়ে তোলা হয়, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, দলাদলি এবং বিরোধ বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য স্থাপনের পথকে সুগম করা যায়।
6. জাতীয় নিরাপত্তার উপযোগী: জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মকবাদী শাসনব্যবস্থা উপযুক্ত। কারণ শাসক সহজেই জাতীয় প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, জাতীয় সম্পদ এবং জাতীয় জনসমাজকে একত্রীকরণ এবং বিদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তিকে প্রতিরোধ করতে পারেন।
উক্ত গুণগুলি আলোচনা সত্ত্বেও বলা যায় এরূপ শাসনব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতা বিরোধী তাই বিবিধ গুণ থাকলেও এই ব্যবস্থা কাম্য নয়।