Chapter 9

আজব শহর কলকেতা

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর


প্রশ্নঃ ১ 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। 


উত্তরঃ 'নামকরণ' অংশ অনুসরণে লেখো।


প্রশ্নঃ ২ 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে বর্ণনা করো। 


উত্তরঃ 'বিষয়সংক্ষেপ' অংশ অনুসরণে লেখো।


প্রশ্নঃ ৩ "ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি”-কে ছেলেবেলা থেকে কোন্ কথা শুনে আসছেন? বক্তার পরিচয় দাও।


উত্তরঃ যিনি: আলোচ্য অংশটি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে বক্তা আলী সাহেব স্বয়ং ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছেন।


যে কথা: ছেলেবেলা থেকেই বক্তা শুনে আসছেন যে, কলকাতা হল এক আজব শহর। যদিও তার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ পাননি। তাই কলকাতা শহরকে চেনার জন্য, তার আজব ভাব উপলব্ধি করার জন্য প্রাবন্ধিকের উৎসাহের সীমা ছিল না।


বক্তার পরিচয়: বক্তা হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও ভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলী। প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, উপন্যাস ও রম্যরচনায় তাঁর কৃতিত্ব অবিস্মরণীয়। তিনি বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও বহু ভাষায় প্রাজ্ঞ ছিলেন। 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধে তাঁর সেই ভাষাজ্ঞানের প্রমাণ মেলে। তিনি ছিলেন 'সুরসিক'। আমাদের পাঠ্য 'পঞ্চতন্ত্র'-এর প্রবন্ধগুলিতে তাঁর সূক্ষ্ম হাস্যরসের পরিচয় পাওয়া যায়। আলোচ্য প্রবন্ধে মজলিশি ঢঙে তিনি যেসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শহর কলকাতার আজবভাব-কে তুলে ধরেছেন, তা রম্যরচনা হিসেবে প্রবন্ধটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।


প্রশ্নঃ ৪ আজব শহর কলকেতা--এই শব্দবন্ধটি প্রথম কোথায় ব্যবহৃত হয়? হঠাৎ কী দেখে প্রাবন্ধিকের মনে হয়েছিল কলকাতা শহর আজব?


উত্তরঃ প্রথম উল্লেখ: 'আজব শহর কলকেতা' এই শব্দবন্ধটি প্রথম ব্যবহৃত হয় 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থে। এই গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। এই গ্রন্থে ঊনবিংশ শতাব্দীর নব্য আধুনিক কলকাতার যে বৈচিত্র্যময় সমাজচিত্র তুলে ধরা হয়েছে, 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধেও প্রাবন্ধিক যেন হুতোমের অনুসরণেই এক বর্ণময়, বহু বিচিত্র ঘটমান ঘটনাসমন্বিত কলকাতার ছবি আঁকতে চেয়েছেন।


মনে হওয়ার কারণ: পাঠ্য 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধে আমরা দেখি, প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী ছেলেবেলা থেকেই কলকাতা শহর আজব- এ কথা শুনে এসেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ তিনি পাননি। প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই শহর কলকাতা ঘুরতে বেরিয়েছিলেন প্রাবন্ধিক। হঠাৎ তাঁর নজরে আসে একটি 'ফ্রেন্ড বুক শপ'। শহর কলকাতায় যেখানে প্রকাশকরা বাংলা বই বিক্রি করেই বহু সময় লাভের মুখ দেখতে পান না, সেখানে কোনো বই বিক্রেতা কলকাতায় ফরাসি ভাষার বই বিক্রি করবেন বলে দোকান খুলেছেন-এই বিষয়টাই প্রাবন্ধিকের কাছে ছিল অবিশ্বাস্য, অবাক করা। তাই তাঁর মনে হয়েছিল, কলকাতা শহর হয়তো সত্যিই আজব।


প্রশ্নঃ ৫"বুড়ো হতে চললুম তবু তার প্রমাণ পেলুম কমই।"-কে, কীসের প্রমাণ কম পেয়েছিলেন এবং কীভাবে তা প্রমাণিত হল?


উত্তরঃ বক্তা: সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত অংশে স্বয়ং প্রাবন্ধিকের প্রমাণাভাবের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। যে প্রমাণ: কলকাতা যে 'আজব শহর' তা প্রাবন্ধিক তাঁর ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছেন। কলকাতার 'আজব' চরিত্রের কথা বহুশ্রুত হলেও তার উপযুক্ত প্রমাণ তিনি লাভ করেছেন অনেক কম। জনশ্রুতির পাশাপাশি কলকাতার আজবভাব বোঝার জন্য যথাযথ প্রমাণের প্রয়োজন। তাই উপযুক্ত প্রমাণ সহযোগে প্রবন্ধ লেখার তাগিদে, তার উপকরণ সংগ্রহ করতেই কলকাতার রাজপথে নেমেছিলেন তিনি।


যেভাবে প্রমাণিত হল: প্রাবন্ধিক ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছেন, কলকাতা হল এক আজব শহর। একসময় বাংলার রক্ষণশীল সমাজ 'গজিয়ে ওঠা' কলকাতার নব্য কালচার দেখে বলত- “মিথ্যে কথার কিবা কেতা। আজব শহর কলকেতা"। তিনি বুড়ো হতে চলেছেন তবু এ কথার কোনো কঠোর প্রমাণ পাননি। তাই তাঁর আপশোশ থেকে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই একদিন কলকাতা শহরের বুকে ফরাসি বইয়ের দোকান দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। যেই শহরে ব্যাবসায় ক্ষতির আশায় বাংলা প্রকাশকরাই বই হাপাতে ভয় পায়, সেই শহরে কোনো বই বিক্রেতার ফরাসি বইয়ের দোকান দেওয়ার ঘটনাই শহর কলকাতাকে আজব বলে প্রমাণিত করেছিল।


প্রশ্নঃ "তাই নিয়ে একখানা প্রামাণিক প্রবন্ধ লিখব ভাবছি-কে, কী নিয়ে প্রামাণিক প্রবন্ধ লিখবেন ভেবেছিলেন? লিখতে বসে প্রাবন্ধিকের কী অবস্থা হয়েছিল?


উত্তরঃ এক যিনি: আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই প্রবন্ধ থেকে আমরা জানতে পারি প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী একখানা প্রামাণিক প্রবন্ধ লিখবেন ভেবেছিলেন।


প্রবন্ধের বিষয়: প্রাবন্ধিক ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছেন-কলকাতা হল এক আজব শহর। কিন্তু তার প্রমাণ তিনি বৃদ্ধ বয়সে এসেও সেভাবে পাননি। তাই এই বিষয়ে তিনি একটা প্রামাণিক প্রবন্ধ লিখবেন বলে মনস্থির করেছিলেন- সে-কথাই এখানে বলা হয়েছে।


প্রাবন্ধিকের অবস্থা: 'কলকাতা আজব শহর'-এ বিষয়ে একটি প্রামাণিক প্রবন্ধ লেখার কথা যখন প্রাবন্ধিক ভাবছেন তখনই হঠাৎ নামে প্রবল বৃষ্টি। এই অবিরাম বর্ষণে প্রাবন্ধিককে এক গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ তাঁর কাছে না ছিল ছাতা, না ছিল বর্ষাতি। ট্রামে চড়ার তাগদ নেই, বাসে চড়ার আগ্রহ নেই, আর্থিক অবস্থার জন্য ট্যাক্সি চড়ার ক্ষমতাও নেই। এই অকালদুর্যোগে তাই পথ না হারিয়েও বাড়ি ফেরার চিন্তাটা পথ হারানোর বেদনার মতোই হয়ে ওঠে। আসলে বাড়ির পথ আর প্রবন্ধ রচনার পথ-উভয়ই তিনি যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন।


প্রশ্নঃ ৭ "এমন সময় নামল জোর বৃষ্টি কোন্ সময়ের কথা বলা হয়েছে? এর ফলে প্রাবন্ধিকের কী অবস্থা হয়েছিল?


উত্তরঃ যে সময়ের ইঙ্গিত: উদ্ধৃত অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'আজব শহর কলকাতা' প্রবন্ধের অন্তর্গত। পাঠ্য 'আজব শহর কলকেতা' প্রবন্ধটির লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছেন-কলকাতা আজব শহর। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য তথ্য বৃদ্ধ বয়স পর্যন্তও তিনি পাননি। তাঁর এই শোনা কথা এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তিনি যখন একটি প্রামাণিক প্রবন্ধ লিখবেন ভাবছিলেন, ঠিক এমনসময়ই নামে জোর বৃষ্টি। ফলে প্রাবন্ধিক তাঁর প্রবন্ধ লেখার চিন্তাসূত্র হারিয়ে ফেলেন।


প্রাবন্ধিকের অবস্থা: ৬নং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তরের 'প্রাবন্ধিকের অবস্থা' অংশটি দ্রষ্টব্য।