short answer
1. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ককে বোঝায়।
অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের লেখকরা শুধু রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হিসেবে আখ্যা দিতে চাননি। তাঁরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি বৃহত্তর ধারণা। এর মধ্যে রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক একমাত্র আলোচ্য বিষয় হতে পারে না। রাষ্ট্রের পাশাপাশি অ-রাষ্ট্রীয় সংস্থা (সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ইত্যাদি), ব্যক্তি, মতাদর্শ ও স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
2. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পামার ও পারকিনস কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে পামার ও পারকিনস বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি বৃহত্তর ধারণা। এর মধ্যে রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক একমাত্র আলোচ্য বিষয় হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে বিশ্বের সব মানুষ ও গোষ্ঠীর যাবতীয় সম্পর্ককে বোঝায়।
3. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি কি একই বিষয়। এদের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি একই বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি দুটি আলাদা বিষয়। এই কারণে এদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রটি অনেক বড়ো। এই কারণে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্তর্ভুক্ত করে দেখাটা ঠিক নয়। প্রকৃতিগতভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য থেকে গেছে।
4. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যে আন্তর্জাতিক সংগঠনটি গঠিত হয় তার নাম কী? এই আন্তর্জাতিক সংগঠনে রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি যোগ দিয়েছিল?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যে আন্তর্জাতিক সংগঠনটি গঠিত হয় তার নাম জাতিসংঘ বা 'League of Nations'
এই আন্তর্জাতিক সংগঠনে রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়নি।
5. ১৯২২ এবং ১৯২৫ সালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম কী? বইগুলি কার লেখা?
উত্তর: ১৯২২ সালে প্রকাশিত বইটির নাম-'The History and Nature of International Relations'। এই বইটি সম্পাদনা করেছিলেন ই এ ওয়ালস।
অন্যদিকে, ১৯২৫ সালে প্রকাশিত বইটির নাম ছিল-'Interna-tional Relations'। এই বইটির লেখক হলেন আর এল বিউয়েল।
6. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যে দুটি 7 বিষয় জায়গা করে নেয় তা হল আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমের ও ঠান্ডা লড়াই, এই দটি বিষয় বলতে কী বোঝায় খুব সংক্ষেপে বর্ণন করো।
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃদে পুঁজিবাদী জোট, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক জোট-এই পরস্পরবিরোধী দুই জোটের মধে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ভাগ হয়ে যায়। একে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমেরুকরণ বলে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষমতা প্রদর্শন ও মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার যে রেষারেষি চলে তা একধরনের লড়াইয়ের চেহারা নেয়। এই লড়াইকে বলে ঠান্ডা লড়াই। ঠান্ডা লড়াই হল এমন এক অবস্থা যাকে এককথায় বলা যেতে পারে 'না যুদ্ধ, না শান্তি'।
7. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে কোন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ও কূটনীতিবিদের লেখায় বাস্তববাদ বিশ্লেষণ করা হয়? তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ও কূটনীতিবিদ ই এইচ কার (EH Carr)-এর লেখায় বাস্তববাদকে বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম 'The Twenty Years Crisis' (১৯৩৯)।
8. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী তত্ত্বকে সমালোচনা করতে গিয়ে স্ট্যানলি হফম্যান কী বলেছেন?
উত্তর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী তত্ত্বের সমালোচনা করে স্ট্যানলি হফম্যান একে যান্ত্রিক মতবাদ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে বাস্তববাদী তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণে যে যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে তা আজকের পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রাসঙ্গিক নয়।
9. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তরঃ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারনীতিবাদের দুটি বৈশিষ্ট্য হল-
1) উদারনীতিবাদ বিশ্বব্যবস্থায় গণতন্ত্রীকরণ ও মানবাধিকারের স্বীকৃতির পক্ষপাতী। উদারনীতিবাদ মনে করে, সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই, যুদ্ধ বা যুদ্ধের হুমকির পরিসমাপ্তি ঘটবে।
2) উদারনীতিবাদ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতী।
10. লর্ড ব্রাইস কোন্ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরে বক্তৃতা দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রিত হন? তাঁর বক্তৃতামালা নিয়ে পরের বছর যে বই প্রকাশিত হয় তার নাম কি?
উত্তর: ১৯২১ সালে লর্ড ব্রাইস আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরে বক্তৃতা দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রিত হন।
a) তাঁর বক্তৃতামালা নিয়ে পরের বছর যে বই প্রকাশিত হয় তার নাম ছিল-'International Relations'।
Long answer
1. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে একটি পাঠ্যবিষয় হিসেবে বিকশিত হয়েছিল? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যবিষয় হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (1914-1918) পর বিকশিত হয়েছিল। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ওয়েলসে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ চালু হয়। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (1939-1945) সূত্রপাত এবং লিগ অফ নেশনসের ব্যর্থতা আদর্শবাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বাস্তববাদ (Realism) একটি প্রভাবশালী তত্ত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের সময়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে আচরণবাদ (Behavioralism) এবং নয়া-বাস্তববাদ (Neo-realism) ও নয়া-উদারবাদ (Neo-lib-eralism) এর মতো তত্ত্বগুলি বিকশিত হয়, যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবংকাঠামোগত বিশ্লেষণের উপর জোর দেয়। ঠান্ডাযুদ্ধ পরবর্তীকালে বিশ্বায়ন, মানবাধিকার, পরিবেশগত সমস্যা এবং অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতাদের উত্থানের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি আরও বৈচিত্র্যময় এবং আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে নির্মাণবাদ (Constructivism), মার্কসবাদ, নারীবাদ এবং সমালোচনামূলক তত্ত্বের মতো নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এইভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আজ বিশ্ব রাজনীতির জটিল প্রক্রিয়াগুলি বোঝার একটি অপরিহার্য পাঠ্যবিষয় হিসেবে গড়ে উঠেছে।