Short answer
1. 'দণ্ড নিষ্কৃতি আইন' বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ভারতের কোথাও সামরিক শাসন চালু থাকলে কোনো সরকারি কর্মচারী বা অন্য কেউ শৃঙ্খলা রক্ষা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কোনো অবৈধ কাজ করলে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে সেই কাজকে বৈধ বলে ঘোষণা করতে পারে। পার্লামেন্ট-প্রণীত এরূপ আইনকে 'দণ্ড নিষ্কৃতি আইন' বলা হয়।
2. রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতাবলি উল্লেখ করো।
উত্তরঃ রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হল- 1) প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে; 2) কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সি হতে হবে; 3) পার্লামেন্ট আইনের সাহায্যে যেসব যোগ্যতা নির্ধারণ করবে,প্রার্থীকে সেসবের অধিকারী হতে হবে; 4) লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, বিকৃতমস্তিষ্ক, দেউলিয়া প্রভৃতি ব্যক্তি অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
3. ভারতীয় পার্লামেন্টের সরকারি গাণিতিক কমিটির গঠন সম্বন্ধে লেখো।
অথবা, ভারতীয় পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হয়?
উত্তরঃ ভারতীয় পার্লামেন্টের সরকারি গাণিতিক কমিটি বা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি প্রতি বছর লোকসভার সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ১৫ জন নির্বাচিত সদস্য এবং রাজ্যসভার ৭ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত হয়।
4. পার্লামেন্টের দুটি অর্থবিষয়ক কমিটির নাম লেখো।
উত্তরঃ পার্লামেন্টের অর্থ-সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি প্রধান কমিটি হল-1) সরকারি গাণিতিক কমিটি, 2) আনুমানিক ব্যয়-পরীক্ষা কমিটি।
5. রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা কত? রাজ্যসভা কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তরঃ রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা অনধিক ২৫০ জন। এর মধ্যে ১২ জনকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করেন। অন্যরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারা একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের ভিত্তিতে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নিয়মানুযায়ী নির্বাচিত হন। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা একটি বিশেষ নির্বাচক সংস্থার দ্বারা নির্বাচিত হন।
6. সংবিধান অনুসারে কারা লোকসভার সদস্য হওয়ার অযোগ্য?
উত্তরঃ সংবিধান অনুসারে যেসব ব্যক্তি লোকসভার সদস্য হওয়ার অযোগ্য তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, দেউলিয়া, বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তি এবং বিদেশি।
7. ভারতের সঞ্চিত তহবিল বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ ভারত সরকারের সংগৃহীত এবং আদায়িকৃত রাজস্ব ও ঋণ বাবদ অর্থ নিয়ে ভারতের সঞ্চিত তহবিল গঠিত হয়। আইনসভা কর্তৃক অনুমোদিত না হলে সরকার ভারতের সঞ্চিত তহবিল থেকে কোনো অর্থ খরচ করতে পারে না। সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের হাতে এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
8. পার্লামেন্টের সদস্যদের কী কী সযোগসুবিধা ও অধিকার দেওয় হয়েছে?
উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের সদস্যরা যেসব সুযোগসুবিধা ও অধিকার ভোগ করে থাকেন তার মধ্যে রয়েছে 2 বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতা, অধিবেশন চলাকালীন অবস্থায় গ্রেফতার না হওয়ার স্বাধীনতা, পার্লামেন্টের যে-কোনো কক্ষের কর্তৃত্বাধীনে প্রকাশিত বিবরণ, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যবিবরণীর জন্য আদালতে অভিযুক্ত না হওয়ার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
9. রাজ্যসভার যে-কোনো দুটি বিশেষ ক্ষমতার উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ভারতে রাজ্যসভার দুটি বিশেষ ক্ষমতা হল-1) রাজ্যসভার উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ যদি প্রস্তাব গ্রহণ করে যে, জাতীয় স্বার্থে রাজ্য-তালিকার কোনো বিষয়ে পার্লামেন্টের আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন তাহলে পার্লামেন্ট সে-বিষয়ে আইনপ্রণয়ন করতে পারে; 2) উপরাষ্ট্রপতির পদচ্যুতি-সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপনেও রাজ্যসভার প্রাধান্য রয়েছে।
10. লোকসভা কীভাবে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তরঃ লোকসভা যেভাবে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- 1) যে-কোনো জরুরি বিষয়ে আলোচনার দরকার হলে লোকসভার যে-কোনো সদস্যের মূলতবি প্রস্তাব উত্থাপনে ক্ষমতা রয়েছে: 2) দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশ দিয়ে লোকসভার যে কোনো সদস্য সরকারের এটিবিচ্যুতির বিরদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।