বাংলা চিত্রকলার ইতিহাস

Chapter 8

১. পাল যুগের দুজন বিখ্যাত শিল্পীর পরিচয় দাও এবং বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে পাল যুগের চিত্রকলার বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করো। ২+৩

উত্তর: পাল যুগের দুজন শিল্পীঃ পাল যুগে ধীমান ও বিটপাল নামক দুজন বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন। ধীমান ছিলেন একজন প্রধান শিল্পী এবং বিটপাল ছিলেন তাঁর পুত্র। এঁরা দুজনেই ব্রোঞ্জ মূর্তি, ভাস্কর্য এবং চিত্রকলার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিব্বতীয় ঐতিহাসিক লামা তারানাথ তাঁর 'ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ধীমান ছিলেন 'নাগ' রীতির অনুসারী।


বৈশিষ্ট্যঃ পাল চিত্রকলা পাল রাজা প্রথম মহীপালের রাজত্বে তালপাতার উপরে চিত্রসংবলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ 'অষ্টসহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পান্ডুলিপির বারোটি রঙিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন। এই চিত্রকলার অঙ্কন নৈপুণ্য এতই উন্নত যে, এগুলিকে বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাথমিক নিদর্শন বলে মনে হয় না। চিত্র কর্মগুলির উন্নত শিল্পরীতি দেখে মনে হয় এর পিছনে অনেকদিনের অভিজ্ঞতা কাজ করেছে।


রেখা ও রঙের ব্যবস্থায়ঃ পাল চিত্রকলা রীতি ও বৈশিষ্ট্য বিচারে সর্বাগ্রে চলে আসে তার ছন্দময় রেখা ও রঙের মাধ্যমে আলো ছায়া ও পরিপূর্ণভাবে বিকশিত সাবলীল শারীরিক গঠন। এই বৈশিষ্ট্যগুলি যেন ভারতীয় ধ্রুপদি যুগোর বাঘ, অজন্তা ও বাদামি গুহার চিত্রকলার নতুন আত্মপ্রকাশ।


বিষয়ঃ পাল যুগে অঙ্কিত পুথি চিত্রগুলিতে দেখা যায়, গৌতম বুদ্ধের জীবনের ঘটনা ও গৌতম বুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ ধর্ম। পরবর্তীতে হীনযান ও মহাযান হয়ে তন্ত্রযান ও বজ্রযান বিশ্বাসে বিভক্ত হয়ে পড়া বিভিন্ন দেবদেবীর চিত্র।


উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারঃ পাল পুথি চিত্রগুলি লক্ষ করলে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার। যেমন কমলা ও হলুদ এদের মধ্যে প্রধান।


প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপনঃ পাল যুগের চিত্রকর্মগুলিতে প্রকৃতি ও মানবজীবনের বিভিন্ন দৃশ্য চিত্রিত হয়েছে। এই চিত্রকর্মগুলিতে প্রকৃতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


২. বাংলা চিত্রকলায় মুরশিদাবাদ শৈলী বলতে কী বোঝো এবং এই শৈলীর গুরুত্ব ও অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। ২+৩

উত্তর: মুরশিদাবাদ শৈলীঃ মুরশিদাবাদ শৈলী হল বাংলা চিত্রকলায় মুঘল ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি নতুন ধারা। এটি আঠারো শতকের প্রথম চতুর্থাংশে বাংলা প্রদেশের রাজধানী

মুরশিদাবাদে সৃষ্টি হয়েছিল। এই শৈলীর চিত্রকর্মে মোগল দরবারি শিল্পীদের প্রভাব দেখা যায় এবং এটি রাগ-রাগিণীর দৃশ্য, দরবারি দৃশ্য এবং স্থানীয় জীবনের চিত্র তুলে ধরে।


গুরুত্বঃ নবাব আলিবর্দি খাঁর শাসনকালে ১৭৪০-১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে মুরশিদাবাদ শৈলীর সর্বোৎকৃষ্ট বিকাশ ও সমৃদ্ধি ঘটেছিল। বাংলার তৎকালীন রাজনৈতিক রাজধানী মুরশিদাবাদের মোগল আমলের সূত্রে স্মরণীয় দুটি উৎসব ছিল-মহরম ও খোজা খিজির উৎসব। ১৭০০-১৭২৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে উৎসবের ভেলা, জলযান এবং রং- লণ্ঠন নির্মাণের জন্য দিল্লি থেকে কুশলী কারুশিল্পীরা বাংলায় এসে সমাদর লাভ করেন। এদের নির্মিত অভ্রপাতে ও আলো শিল্পে কোরানের বাণী, মসজিদ, গম্বুজ, গাছপালা নানা রকমের মূর্তি চিত্রিত হত। বাংলার বহু শিল্পীও এতে অংশ নিতেন।


অবদানঃ মুরশিদাবাদ শৈলীর পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়া যায় নবাব আলিবর্দি খাঁর আমলে। তিনি ছিলেন শিল্প রসিক এবং শিল্পচর্চাকারীদের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক। সেই সময়কার জনৈক শিল্পীর আঁকা ছবিতে আলিবর্দির শিকার পর্বের নানা মুহূর্ত ধরা পড়েছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদদৌলা যেহেতু বিলাসী ছিলেন তাই তাঁর আমলের মুরশিদাবাদ শৈলীতে জ্যামিতিক বিন্যাসে অভূতপূর্ব নতুনত্ব দেখা যায়। এই সময়ের বাংলার শিল্পীদের ওপর একাধারে রাজস্থানী, জয়পুরী শৈলী ও মোগল সংস্কৃতির প্রভাব সুস্পষ্ট। সিরাজের পরবর্তী ক্ষেত্রে মীরজাফর, মিরকাশিমের আমলে মুরশিদাবাদ শৈলীতে যেমন বিপুল পরিবর্তন আসে, তেমন পাশ্চাত্য শৈলীর হালকা প্রভাব পড়তে শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের সূত্রে।


৩. চিত্রকলার ইতিহাসে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: গগনেন্দ্রনাথের অবদানঃ গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি ১৯৩০- এর দশকে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলায় একজন অগ্রগামী শিল্পী হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর কিউবিস্ট শৈলী এবং কার্টুন শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে তাঁর কাজে কিউবিজমের ভাষা ও গঠন ব্যবহার করেছিলেন, যা ভারতীয় চিত্রকলায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। কার্টন শিল্পের ক্ষেত্রেও তিনি একজন পথিকৃত হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি লাভ করে।


বিষয়: বিদেশি ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করে তিনি নানা ধরনের ছবি আঁকেন। ভারতীয় শিল্প আঙ্গিককে তাই তিনি প্রথম ফরাসি শিল্পরীতির প্রভাবের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। গগনেন্দ্র কিছুদিন হরিচরণ বসুর কাছে ছবি আঁকার পাঠ গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি জাপানি শিল্পী টাইকান ও হাসিদার কাছে জাপানি কালি-তুলি ও ওয়াশ পদ্ধতির ব্যবহার শেখেন। এই পদ্ধতির প্রয়োগে তিনি বারোটি কাকের ছবি সমন্বিত 'টুয়েলভ ইংক স্কেচেস' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করেন। এই ছবিতে আলোছায়ার রহস্য বিষয়ে তাঁর দক্ষতা লক্ষ করা যায়।


বিশেষ কৃতিত্ব: গগনেন্দ্রনাথের এক বিশেষ কৃতিত্ব ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন অঙ্কন। ইঙ্গ-বঙ্গ সমাজ, ব্যারিস্টারদের স্বদেশিয়ানা, চরকা বনাম পৃথিবীর সভ্যতা-এসব বিষয়ে তাঁর কার্টুন ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।


তৎকালের কলকাতার দুই শ্রেষ্ঠ সাময়িক পত্রিকা 'প্রবাসী' ও 'মডার্ন রিভিউ'-তে ব্যঙ্গচিত্র এঁকে গগনেন্দ্রনাথ সুনাম অর্জন করেন। 'নবহুল্লোড়', 'অদ্ভুতলোক' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বহু ব্যঙ্গচিত্র গ্রন্থিত। বহু বিচিত্র ছবি এঁকেছেন গগনেন্দ্রনাথ। তাঁর ওয়াশ পদ্ধতিতে আঁকা ছবিগুলি চিত্ররসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তাঁর অনেক ছবিই এখন আর পাওয়া যায় না। তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আধুনিক ভারতীয় শিল্পের অন্যতম পথিকৃত ছিলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।


৪. ষাট-সত্তর দশকের শিল্পীদের শিল্পচর্চার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর: মাট ও সত্তর দশকের শিল্পচর্চা: ষাট ও সত্তর দশকে বাংলা শিল্পচর্চায় বিচিত্র ধারা ও প্রবণতা দেখা যায়। এই সময় বাংলায় এক ঝাঁক শিল্পীর উত্থান ঘটে। এই সময়কালে শিল্পীরা বিমূর্ত, পরাবাস্তব এবং লোকজ শিল্পকলার প্রতি আকৃষ্ট হন। ১৯৬০-এ তৈরি হয় 'সোসাইটি অফ কনটেম্পোরারি আর্টিস্ট' নামে এক শিল্পীদল। ১৯৬৪-তে প্রতিষ্ঠিত হয় 'ক্যালকাটা পেইন্টার্স'। এই দুই দলের বাইরের বেশ কিছু শিল্পী স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। যাঁদের ছবিতে প্রকাশভঙ্গির তফাত থাকলেও বিষয় বিন্যাস ও শিল্প বস্তু নির্মাণে সমাজ বাস্তবতা, দেশ ও কালচেতনা পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পায়। এঁদের অন্যতম ছিলেন সোমনাথ হোর, গণেশ হালুই, লালুপ্রসাদ সাউ, নিখিল বিশ্বাস, বিজন চৌধুরী প্রমুখ।


বিষয় ও প্রকৃতিঃ ষাট ও সত্তর দশকে বিমূর্ত শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করে। এই ধারায় শিল্পীরা রং, রেখা এবং আকারের ব্যবহার করে নতুন ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করেন।


ষাট ও সত্তর দশকে পরাবাস্তববাদও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ছিল। এই ধারায় শিল্পীরা স্বপ্ন ও কল্পনার জগৎকে তাদের শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই সময় অনেক শিল্পী লোকজশিল্পকলা থেকে অনুপ্রাণিত হন, তারা গ্রামের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে তাদের কাজে ব্যবহার করেন। এই সময়কালে রাজনৈতিক সচেতনতাও শিল্পচর্চায় প্রতিফলিত হয়। অনেক শিল্পী রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলি তাদের শিল্পকর্মে তুলে ধরেন।


শিল্পীগণ: কেউ কেউ অ্যাকাডেমিক স্বাভাবিকতায় সামান্য রূপভেদ ঘটিয়ে চিত্রচর্চায় সম্পূর্ণ নিজস্বতাকে তুলে ধরেছিলেন। বিকাশ ভট্টাচার্য অসম্ভব দক্ষতায় সব মাধ্যমেই কাজ করেছেন। ধর্মনারায়ণ সমাজ বাস্তবতাকে তির্যক দৃষ্টিতে, লৌকিক আঙ্গিকে প্রয়োগ করেছেন। গণেশ পাইনের ছবিতে ফুটে উঠেছে সমাজ বাস্তবতা ও ইউরোপীয় আধুনিক শিল্পচেতনার মিশ্রণ। গণেশ হালুই মূলত স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ জল রঙে বিমূর্ত ছবি এঁকেছেন। সনৎ কর তাঁর ছবিতে প্রেম ও করুণায় মিশ্রিত এক জগৎ গড়ে তোলেন। একইভাবে কার্তিক পাইন, শ্যামল দত্ত রায়, সুহাস রায় তাঁদের ছবিকে অসাধারণ মূর্ততা দিয়ে নিজস্ব করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।


৫. বাংলা চিত্রকলাচর্চার ধারায় জয়নুল আবেদিনের অবদান আলোচনা করো।

উত্তর: ভাবদান : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অসাধারণ প্রতিভাবান শিল্পী জয়নুল আবেদিন। 'ইন্সটিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের তিনিই পুরোধা। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত (বর্তমান চারুকলা ইন্সটিটিউট) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। তিনি তাঁর নেতৃত্বের গুণে অন্যান্য শিল্পীদের সংগঠিত করার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি এমন এক স্থানে এটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যেখানে বাস্তবিকপক্ষে শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাভিত্তিক কোনো ঐতিহ্য ছিল না। জয়নুল আবেদিনের অসাধারণ শিল্প মানসিকতা ও কল্পনাশক্তির জন্য তিনি 'শিল্পাচার্য' উপাধিতে ভূষিত হন।


ধরনঃ জয়নুল আবেদিন এশীয় ধাঁচের শিল্পরীতি চোখ বুজে অনুসরণ করেননি আবার ইউরোপীয় গণ্ডিতে আটকে থাকেননি। দুইয়ের মিশ্রণে নিজস্ব একটি ধাঁচ তৈরি করেন।


বিষয়ঃ জয়নুল আবেদিন মানুষের ছবি এঁকেছেন-এঁকেছেন জীবন সংগ্রামের ছবি। তাদের ফসল ঘরে তোলার, নৌকা বাওয়ার, শীতে আগুন পোহানোর ছবি, গোরু ও গাড়োয়ানের ঝড়ের দিনের ছবি এঁকেছেন পরম মমতায়।


জয়নুলের অতি বিখ্যাত 'দুর্ভিক্ষ' চিত্রমালার বিখ্যাত একটি ছবি 'ম্যাডোনা ১৯৪৩', যাতে তিনি ফুটিয়ে তোলেন-মৃত্যুপথ যাত্রী, দুর্ভিক্ষের শিকার, কঙ্কালসার সন্তানের দ্বারা সমাদৃত মায়ের বুক থেকে জীবনসুধা টেনে নেওয়ার অপপ্রচেষ্টার দৃশ্য। এই সিরিজের প্রতিটি ছবিই প্রায় এমনতর বাস্তবিক এবং ঐতিহাসিক, যা অকল্পনীয় কঠোরতার মুখোমুখি করে মানুষকে। ছবিগুলি রঙের প্রলেপ এবং মননের দীপ্তিতে উজ্জ্বল।


১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে ভিত্তি করে আঁকা ৬৫ ফুট দীর্ঘ 'নবান্ন' এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আঁকা ৩০ ফুট দীর্ঘ 'মনপুরা' পেইন্টিংটির মাঝে তাঁর কর্মের বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।


মুক্তিযুদ্ধ জয়নুলের ক্যানভাসে বিমূর্ত হয়ে উঠেছে। মুক্তি যুদ্ধ নিয়ে এঁকেছেন 'বীর মুক্তি যোদা' নামে বিখ্যাত ছবি।


গুরুত্ব: জয়নুল দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানকার আধুনিক চিত্রকলার শিক্ষা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি সেখানকার জাতীয় শিল্পীর মর্যাদা পান।


৬. 'পট' বলতে কী বোঝো? বাংলার লোকশিল্প হিসেবে পটশিল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ২+৩

উত্তর: পটঃ অভিধানে 'পট' শব্দের অর্থ চিত্র, কিন্তু বর্তমানে পট বলতে এক বিশেষ ধরনের ছবি বোঝায়। লোকশিল্পের একটি অতি প্রাচীন মাধ্যম পট। কখনও কাপড়ের ওপর কাদামাটি কখনও বা গোবর মিশ্রিত প্রলেপের সঙ্গে আঠা মিশিয়ে জমিন তৈরি করে পট অঙ্কিত হত। ওই পট নিয়ে শিল্পী নিজের সংগীতও পরিবেশন করতেন।

বাংলার লোকশিল্প হিসেবে পটশিল্পঃ ধর্মাশ্রিত লোকশিল্প হিসেবে এককালে আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলার পটশিল্প। সেই লোকশিল্পের ধারাটি উপনির্বশিকতার আলোতে বিবর্তিত হতে থাকল সমাজ চিত্রের চিত্রায়নে। একসময় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা গৌতম বুদ্ধের জীবনী ও পূর্বজন্ম সংক্রান্ত গল্প নিয়ে পট তৈরি করে প্রদর্শন করতেন। সপ্তম শতকের গোড়ায় লেখা 'হর্ষচরিত' গ্রন্থেও পটুয়াদের কথা উল্লেখ আছে। দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতকেও পটশিল্প আরো বিস্তার লাভ করে। পনেরো শতকে গাজির পট প্রবর্তিত হয়েছিল। ষোড়শ শতকে চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচারের জন্য পট প্রচলিত ছিল।

উনিশ শতকে বাংলায় প্রসিদ্ধি পেয়েছিল কালীঘাটের পট। প্রাচ্য ও পাশ্চাতোর চিত্রশিল্পী মিশিয়ে এই পট তৈরি হত। কালীঘাটের পটে হিন্দু দেবদেবীর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন খারাপ বিষয়কে সমালোচনা করা হতো। এই জন্যেই এই পট উনিশ শতকে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তেমনি সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত হয়েছিল। কালীঘাটের পটের মূল্য অতি সামান্য ছিল বলে মানুষজন এই পট কিনতে ভিড় জমাত। 'মোহস্ত ও এলোকেশী' কালীঘাটের পট চিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।


৭. 'ক্যালকাটা গ্রুপ' শিল্পীগোষ্ঠী শিল্পে যে নতুন ধারা নিয়ে এলো তার পরিচয় দাও এবং এই গোষ্ঠীর দুজন শিল্পীর শিল্প প্রতিভার পরিচয় দাও। ২+৩

উত্তর: ক্যালকাটা গ্রুপের শিল্পীগোষ্ঠীর অবদানঃ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সংকটকালের প্রেক্ষাপটে 'ক্যালকাটা গ্রুপ' নামে এক নতুন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে। ক্যালকাটা গ্রুপের সদস্যরা বাস্তবানুগ অ্যাকাডেমিক রীতির জড়ত্ব ও নব্যবঙ্গীয় শৈলীর অতীত নির্ভতার থেকে সরে গিয়ে নতুন শিল্প অভিমুখ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। শিল্পকে পুরোনো অভ্যাসের বন্ধনমুক্ত করে সমকালীন করতে চেয়েছিলেন এঁরা। অর্থাৎ এই গোষ্ঠীর সদস্যরা একত্রিত হয়েছিলেন মূলত পাশ্চাত্য জগতের শিল্পীদের পরীক্ষানিরীক্ষার ভিত্তিতে কলাশিল্পের ভাষাকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে।


এই গোষ্ঠীর দুজন অন্যতম শিল্পী হলেন পরিতোষ সেন ও গোবর্ধন আশ।


পরিতোম সেনঃ পরিতোষ সেন একজন প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় চিত্রশিল্পী। কলকাতার সুবিখ্যাত শিল্পীদল 'ক্যালকাটা গ্রুপ'-এর তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে দেশে বিদেশে বহু ছবি এঁকেছেন পরিতোষ সেন। তাই মানুষের সামাজিক অধিকারেরর দিকগুলির প্রতি তির্যক ইঙ্গিত ও ব্যঙ্গমিশ্রিত কটাক্ষপাত তাঁর ছবিতে দৃষ্ট হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি 'তরমুজ রসিক', 'বাবু', 'বড়ে গোলাম আলী'। দেশে বিদেশে তাঁর ছবি প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। ফরাসি দেশের থেকে তিনি 'কিউবিজম' এর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। ভারতীয় চিত্ররীতির সঙ্গে কিউবিজমের মিশ্রণে তিনি এক নতুন শিল্পরীতির জন্ম দিলেন। কালীঘাটের পটের প্রভাবও তাঁর ছবিগুলিতে পাওয়া যায়।


গোবর্ধন আশঃ 'ক্যালকাটা গ্রুপ'-এর প্রতিষ্ঠা লগ্নে যুক্ত না থাকলেও পরবর্তী সময়ে গোবর্ধন আশ এই গোষ্ঠীতে যোগদান করেন। তিনি জীবনের নানা বিষয় ও নানা আঙ্গিকে ছবি এঁকেছেন। ১৯৪৩-এর মন্বন্তরের ছবিতে। পরিস্ফুট করেছেন প্রাগাঢ় সামাজিক দায়বোধ। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ক্যালকাটা গ্রুপ ও প্রগ্রেসিভ আর্টিস্টস গ্রুপের যৌথ প্রদর্শনীতে প্রকাশ পায় নবচেতনে কল্পিত (আউগার্দ) 'অবতার সিরিজ', যা তৎকালীন শিল্পী মহলে সাড়া ফেলে দেয়। গুয়াসা, তেল রং, জল রং চিত্রকলায় অভূতপূর্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষণের অনুঘটন ও নিগূঢ় পর্যালোচনার নেপথ্যে গোবর্ধনের এই অনমনীয় সৃষ্টি। 'চিলড্রেন সিরিজে দেখা যায় শিল্পীর ব্যতিক্রমী প্রতিকৃতি শৈলী। পোট্রেটে শৈশবের বিচিত্র আবেগপূর্ণতা পেয়েছে সাবলীল ও অব্যয় চিত্রায়নে। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে-'পদ্মায় সূর্যাস্ত', 'ধোবিঘাট' প্রভৃতি।

৮. সুলতানি আমলের চিত্রকলার পরিচয় দাও।

উত্তর: সুলতানি আমলের চিত্রকলা : একাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে পৌরাণিক ব্রাহ্মণধর্মের অনুগামী সেন ও বর্মন রাজাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা চরম নিগৃহীত হয় এবং পাল রাজাদের পরম ধর্ম সহিয়তার নিদর্শন শিল্প-স্থাপত্য-চিত্র-ভাস্কর্য ক্রমশ বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়। ত্রয়োদশ শতকের সূচনায় তুর্কি আক্রমণের ফলে বাংলার মূর্তি ও চিত্রকলার অনুশীলন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।


সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের নেতৃত্বে বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীকালের হুসেন শাহের শাসনকালে তা আরো বিস্তৃতি লাভ করে। বাংলার স্থাপত্য শিল্পে গ্রামীণ লোকচিত্র তৈরির কাজে ভারতীয় সুলতানি স্থাপত্যের প্রভাব পড়ে। মূর্তি ও চিত্রকলায় আপত্তি থাকলেও লোকচিত্র সৃষ্টির নিদর্শন গ্রাম বাংলার পটচিত্রে পাওয়া যায়। চতুর্দশ শতকের শেষ বা পঞ্চদশ শতকের শুরুতে সুলতানদের দরবারে নতুন এক ধারার অনুচিত্রের অনুশীলন শুরু হয়, যার উৎস হল পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার পারসিক বা ইরানীয় পান্ডুলিপি চিত্রকলা।


সুলতানি যুগে সুনিশ্চিত কোনো চিত্র আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত দিল্লির সুলতানরা চিত্রশিল্প বা পাণ্ডুলিপিতে চিত্রাঙ্কণ ব্যবস্থাতে বিশেষ উৎসাহ দেখাননি। তবে আমির খসরু, মৌলানা দাউদ প্রমুখ পন্ডিতদের লেখনীতেও দেয়ালচিত্রে নানা চিত্রকরের নাম উল্লেখ আছে। নসরৎ শাহের দরবারে পারসিক চিত্রশিল্পের ধারা এসে পৌঁছেছিল। বলাবাহুল্য, নিজাম রচিত 'ইসকন্দরনামা' গ্রন্থের যে কপি হামিদ খান সুলতান নসরৎ খানের জন্য করেছিলেন, তাতে পারসিক চিত্রকলার এক পরিণত ঐতিহ্য লক্ষ করা যায়। এ দেশীয় কারিগরদের শিল্পকলার দক্ষতার অনেক সাক্ষ্য ছড়িয়ে আছে গৌড়ের মসজিদ ও সমাধি সৌধের পোড়া মাটির ইট ও টালির উপর অলংকরণে। সুলতানি আমলে পারস্য শিল্পরীতি ও ভারতীয় শিল্পরীতির মেলবন্ধন দেখা যায়। সুলতানি আমলের চিত্রকলা চর্চার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'শরাফনামা' পাণ্ডুলিপির মিনিয়েচার।


৯. বাংলা চিত্রকলার ইতিহাসে হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার ও অতুল বসুর অবদান আলোচনা করো। ২+৩

উত্তর : হেমেন্দ্রনাথ মজুমদারঃ হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার একজন ভারতীয় চিত্রশিল্পী হিসেবে উজ্জ্বল তারকার ন্যায় ভাস্বর হয়ে আছেন। ছেলেবেলা থেকেই হেমেন্দ্রনাথ মজুমদারের ছবি আঁকার ঝোঁক ছিল। তাই ময়মনসিংহের সিটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে কলকাতার 'গভর্নমেন্ট স্কুল অফ আর্ট'-এ ভরতি হন, কিন্তু প্রথাগত বাঁধা ধরা শিল্পচর্চা তার ধাতে ছিল না, তাই আর্ট স্কুল ছেড়ে কলকাতার 'জুবিলি আর্ট স্কুলে' ভরতি হন।


এরপর তিনি ভারতের বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন ও পুরস্কৃত হন। তেল, জল, প্যাস্টেল ও চারকোলে তাঁর দক্ষতা অসামান্য। তাঁর চিত্র রচনার প্রিয় বিষয় ছিল সিক্ত বসনা নারীর কমনীয় দেহরূপ অঙ্কন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি হল- 'আলোকিত মহিলা', 'মহাত্মা গান্ধি'।


অতুল বসু : অতুল বসু হলেন একজন বাঙালি চিত্রশিল্পী। তিনি প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রতিকৃতি এবং পল্লি দৃশ্য বাস্তবানুগ ধারায় ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ছবি আঁকার জন্য তিনি মূলত তেল রং ব্যবহার করতেন।


অতুল বসুর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন-এর ময়মনসিংহ শাখায়। এরপর তিনি কলকাতার জুবিলি আর্ট একাডেমিতে পড়াশোনা করেন। সেখানে তার সহপাঠী ছিলেন হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার এবং ভবানীচরণ লাহা। চিত্রকলা বিষয়ক তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণে অতুল বসুর ভূমিকা ছিল। হেমেন্দ্রনাথ মজুমদার যে 'ইন্ডিয়ান একাডেমি অফ আর্ট' প্রতিষ্ঠা করেন, এক্ষেত্রে অতুল বসু তাকে সহায়তা করেছিলেন। ভবানীচরণ লাহার সহযোগিতায় অতুল বসু 'সোসাইটি অফ ফাইন আর্টস' প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া প্রদ্যোৎকুমার ঠাকুর কর্তৃক 'একাডেমি অফ ফাইন আর্টস' প্রতিষ্ঠার সময়ও অতুল বসু সক্রিয় সহযোগিতা করেন। তিনি কিছুকাল আবার কলকাতা স্কুল অফ আর্টস-এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অজস্র শিল্পসম্ভারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল স্কেচে অঙ্কিত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ প্রতিকৃতি 'রয়েল বেঙ্গল টাইগার'। নিসর্গচিত্রেও তিনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল Verified Perspective, যার প্রকাশক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।


১০. যামিনী রায় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো এবং বাঙালির চিত্রকলা চর্চায় তাঁর ভূমিকা কতখানি তা বুঝিয়ে দাও। ২+৩

উত্তর: যামিনী রায়ের অবদানঃ যামিনী রায় ছিলেন একজন বাঙালি চিত্রশিল্পী, যিনি বাংলার লোকশিল্পের ধারাকে আধুনিক ভারতীয় শিল্পে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি লোকশিল্পের সরলতা, রং এবং শৈলীকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব একটি শৈলী তৈরি করেন, যা তাঁকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। তিনি বাংলার বিখ্যাত লোকচিত্র কালীঘাট পটচিত্র শিল্পকে বিশ্বনন্দিত করে তোলেন। তিনি নিজে পটুয়া না হলেও নিজেকে পটুয়া হিসেবে পরিচয় দিতেই পছন্দ করতেন।


যামিনী রায় প্রথম দিকে ব্রিটিশ একাডেমিক স্বাভাবিকতাবাদী রীতি অনুসরণ করেন। পরে তিনি বাংলা লোকশিল্পের দ্বারস্থ হন। পটচিত্রের প্রতি আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ অনুশীলনের পর তিনি নিজস্ব চিত্রশৈলী গড়ে তোলেন।


যামিনী রায় সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে চিত্রকলা চর্চা করেছিলেন। তাঁর চিত্রশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলি হল-


বিষয়ঃ গ্রাম বাংলার সহজ সরল মানুষ, তাদের দৈনন্দিন অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা, পশুপাখি প্রভৃতিকে তাঁর ছবির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।


অঙ্কনের প্রকৃতি ও শৈলী: তাঁর ছবি সমতল রঙে আঁকা। চিত্রিত মানুষজন, পশুপাখির অবস্থান থাকত পূর্ণ পট জুড়ে। লীলায়ত স্বচ্ছন্দ স্থল তাদের শরীরের বহিঃরেখা। সমতল ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যায় ছোটো-বড়ো অলংকরণ। যামিনী রায় যেমন একদিকে পটুয়াদের অঙ্কনশৈলীর দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হন তেমনি, অন্যদিকে ফরাসি চিত্রধারার বিশেষ গোষ্ঠীর সরলরেখা শৈলীর প্রতিও আকৃষ্ট হন। যদিও শেষের দিকে পাশ্চাত্য রীতিকে তিনি বর্জন করেন ও ভারতীয় চিত্রশিল্পের ধারাকেই গুরুত্ব দেন।


ধর্মের উপস্থাপনাঃ যামিনী রায় তার চিত্র কর্মগুলিতে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়বস্তুও তুলে ধরেছেন। তিনি রামায়ণ ও মহাভারতের দৃশ্য এবং বিভিন্ন দেবদেবী ও অবতারের চিত্র অঙ্কন করেছেন।


বিবিধ শিল্পকর্মঃ 'সাঁওতাল জননী ও শিশু', 'মাদল বাদনরত সাঁওতাল', 'নৃত্যরত সাঁওতাল', 'রাধা কৃষ্ণ', 'জিশু', 'কনে ও তার দুই সঙ্গী'-এগুলি হল তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্ম।