Lesson 2
অসুখী একজন
-----------------------------------
👉Paid Answer (For Membership User)
1. 'অসুখী একজন' কবিতাটি যে মূল কবিতার ভাষান্তর, তার কবি হলেন-
(a) পাবলো পিকাসো
(b) পাবলো নেরুদা
(c) গিউসেপ্নে উনগারেত্তি
(d) পেনত্তি সারিকোস্কি
উত্তর: d) পেনত্তি সারিকোস্কি
2. 'অসুখী একজন' কবিতাটির ইংরেজি তরজমাটি হল-
(a) The
Unhappy Woman
(b) The
Unhapy
(c) The Unhappy One
(d) The
Unhappy Man
উত্তর: c) The
Unhappy One
3. 'অসুখী একজন' শীর্ষক অনুবাদ-কবিতাটি নবারুণ ভট্টাচার্যের যে কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে-
(b) এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
(d) রাতের সার্কাস
উত্তর: a) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে
4. কবি পাবলো নেরুদার জন্মস্থান-
(b) ফ্রান্স
(d) জার্মানি
উত্তর: a) চিলি
5. কবি পাবলো নেরুদার জীবনকাল-
(a) ১৯০৪-১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ
৬. পাবলো নেরুদার আসল নাম-
7. কবি পাবলো নেরুদা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন-
উত্তর: b) ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে
8. নীচের যে কাব্যগ্রন্থটি পাবলো নেরুদার রচিত-
(b) Extravaganza
(d) The Masque of Anarchy
উত্তর: a) Extravagaria
9. 'অসুখী একজন' কবিতাটি কবি পাবলো নেরুদার যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত, সেটি হল-
(a) Intimacies: Poems of Love
উত্তর: b) Extravagaria
10. "আমি তাকে ছেড়ে দিলাম"-কথক ছেড়ে দিয়েছেন-
(b) তাঁর ঘোড়াটিকে
(c) একজন মেয়েকে
(d) তাঁর মাকে
উত্তর: c) একজন মেয়েকে
11. "সে জানত না"-'অসুখী একজন' কবিতায় 'সে' বলতে বোঝানো হয়েছে-
(a) গির্জার এক নানকে
(b) একটা কুকুরকে
(c) একজন সাধারণ নারীকে
(d) বাড়ির ভৃত্যকে
উত্তর: c) একজন সাধারণ নারীকে
12. 'সে জানত না' যে-
(a) কবিতার কথক আর কখনোই ফিরে আসবে না
(b) কবিতার কথক তাকে ফিরে এসে সঙ্গে নিয়ে যাবে
(c) যুদ্ধ আসবে রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো
(d) সমতলে আগুন ধরে যাবে
উত্তর: a) কবিতার কথক আর কখনোই ফিরে আসবে না
13. "একটা কুকুর চলে গেল, হেঁটে গেল”-
(a) একজন অসুখী মেয়ে
(c) শান্ত হলুদ দেবতারা
উত্তর: খ) গির্জার এক নান
14. "বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল।" বৃষ্টিতে যা ধুয়ে দিল-
(a) পায়ের দাগ
(b) রক্তের দাগ
(d) চাকার দাগ
উত্তর: ক) পায়ের দাগ
15. "ঘাস জন্মালো রাস্তায়"-কারণ-
(a) সেই রাস্তা দিয়ে কেউ ফিরে আসেনি
(b) রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল
উত্তর: ক) সেই রাস্তা দিয়ে কেউ ফিরে আসেনি
16. "বছরগুলো নেমে এল তারー"
(a) চলার পথে
(b) জীবনের ওপর
(c) মাথার ওপর
(d) ঘরের দরজায়
উত্তর: c) মাথার ওপর
17. "বছরগুলো/নেমে এল তার মাথার ওপর।" বছরগুলোর 'নেমে আসা'-কে কবিতায় তুলনা করা হয়েছে-
(a) পরপর নেমে-আসা বৃষ্টিফোঁটার সঙ্গে
(b) পরপর নেমে-আসা পাথরের সঙ্গে
(c) রাস্তায় ঘাস জন্মানোর সঙ্গে
(d) শান্ত হলুদ দেবতাদের হাজার বছরের ধ্যানের সঙ্গে
উত্তর: b) পরপর নেমে- আসা পাথরের সঙ্গে
18. "তারপর যুদ্ধ এল
(a) পাহাড়ের আগুনের মতো
(b) রক্তের সমুদ্রের মতো
(c) আগ্নেয়পাহাড়ের মতো
(d) রক্তেরএক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো
20. "তারপর যুদ্ধ এল"-যুদ্ধে খুন হল- বাড়িরা
(a) শহরের মানুষ
উত্তর: শিশু আর বাড়িরা
Short Question Answer
1. "তারপর যুদ্ধ এল..."-যুদ্ধ কীভাবে এল?
উত্তর: কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো যুদ্ধ এসেছিল।
2. 'অসুখী একজন' কবিতায় কারা খুন হয়েছিল?
উত্তর: বিখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল।
3. “সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।”- কোন্ মেয়েটির মৃত্যু হল না?
উত্তর: কবি পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কালান্তক যুদ্ধে বহু শিশু ও গৃহস্থের মৃত্যু হলেও কথকের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটির মৃত্যু হল না।
4. "সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন..."-কীভাবে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গেল?
উত্তর: কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গেল।
5. শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবেছিল?
উত্তর: শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবেছিল।
উত্তর: কবি পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন ছিলেন।
অথবা, যুদ্ধের ফলে শান্ত হলুদ দেবতাদের কী পরিণতি হয়েছিল?
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় হাজার বছর ধরে ধ্যানমগ্ন, স্বপ্নে বিভোর পাথুরে দেবতারা যুদ্ধের আঘাতে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উলটে পড়লেন।
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের বীভৎসতায় ভেঙে পড়া শান্ত হলুদ দেবতারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।
উত্তর: বাড়িটি কবির কাছে 'মিষ্টি', কারণ তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে কবির অনেক প্রিয় স্মৃতি।
10. "সব চূর্ণ হয়ে গেল”—কীভাবে, কী চূর্ণ হয়ে গেল?
উত্তর: কবিতায় যুদ্ধের প্রচণ্ড তাণ্ডবে কথকের ফেলে আসা মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ হয়ে গেল।
11. "যেখানে ছিল শহর”- যেখানে শহর ছিল সেখানে যুদ্ধের পরে কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: যেখানে শহর ছিল, যুদ্ধের পরে সেই শহরে ধ্বংসস্তূপের মাঝে ছড়িয়ে ছিল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা, রক্তের কালো দাগ।
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় মৃত্যু, ধ্বংস আর অবিশ্বাসের মধ্যেও কথকের প্রেমিকা অর্থাৎ 'সেই মেয়েটি' তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছে।
13 "সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।"-কোন্ মেয়েটির? এই 'মৃত্যু' না হওয়ার তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবি বিপ্লব অথবা যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় যে মেয়েটি তাঁর জন্য দরজায় অপেক্ষা করেছিল এখানে তার কথা বলা হয়েছে।
▶ বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ মানুষ যুদ্ধের পথে পা রেখে সংসার, প্রিয়জন সবকিছুকেই পিছনে ফেলে যায়। কিন্তু এই কঠোর বাস্তবকে মেনে নিতে পারে না তার প্রিয়তমা মেয়েটি। প্রিয় মানুষটির জন্য তার অপেক্ষা চলতেই থাকে। যুদ্ধে অজস্র ধ্বংস এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও মেয়েটির মৃত্যু ঘটে না। চিরজীবী ভালোবাসার প্রতীক রূপেই মেয়েটি বেঁচে থাকে।
14. "সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন।"-কী কারণে সমতলে আগুন ধরে গেল? আগুন ধরে যাওয়ার ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: আগ্নেয় পাহাড়ের মতো যুদ্ধ আসার ফলে সমতলে আগুন ধরে গেল।
▶ যুদ্ধের আগুন ধ্বংস ডেকে আনল। তার তীব্রতায় ভেঙে পড়ল মন্দির। টুকরো টুকরো হয়ে গেল শান্ত হলুদ দেবতাদের পাথরের মূর্তি। পুড়ে গেল স্বপ্নের ঘরবাড়ি, সাধের বাগান, গোলাপি গাছ, চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ। বলা যায়, সব কিছুই চুরমার হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে। যেখানে শহর ছিল সেখানে পড়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর ভাঙা পাথরের মূর্তির মাথা।
15"শান্ত হলুদ দেবতারা"-কোন্ কবিতার অংশ? দেবতাদের শান্ত ও হলুদ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: উদ্ধৃতিটি পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন' কবিতার অংশ।
▶ 'শান্ত হলুদ' কথাটি দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে।
দেবতারা স্বভাবত শান্ত। তাদের প্রশান্ত মূর্তির সামনে মানুষ আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু
এই ভরসা সত্ত্বেও দেবতারা যুদ্ধকে ঠেকাতে পারেন না। 'হলুদ' শব্দটির সাহায্যে দেবতাদের সেই বিবর্ণ উপস্থিতিকে বোঝানো
হয়। বিশেষণটি সার্থক হয় যখন দেখা যায় যে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে দেবতারা নিজেদেরও
রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।
16. "ডুবে ছিল ধ্যানে” কারা ডুবেছিল? তারা ধ্যানে ডুবেছিল বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতার 'শান্ত হলুদ দেবতারা' ধ্যানে ডুবেছিল।
▶ দেবতারা প্রশান্ত মূর্তিতে মানুষের দ্বারা পূজিত হন। কিন্তু ইতিহাসের সূচনাপর্ব থেকে এত ঈশ্বরসাধনার পরেও পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা, রক্তাক্ততার অবসান ঘটেনি। মন্দির বা দেবস্থানে ঈশ্বর পাথরের মূর্তি হয়েই থেকে গিয়েছেন। একেই কবি দেবতাদের ধ্যানমগ্ন অবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন। এই ধ্যানমগ্নতা আসলে তাঁদের প্রাণহীনতার দিকেই ইঙ্গিত করে।
17 "তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।"-'তারা' বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তারা স্বপ্ন দেখতে পারল না কেন? অথবা, "তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।"-'তারা' কারা? কেন স্বপ্ন দেখতে পারল না?
উত্তর: প্রশ্নোদ্ভূত অংশে 'তারা' বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের বোঝানো হয়েছে।
18. "সেই মিষ্টি বাড়ি, সেই বারান্দা"-কোন্ মিষ্টি বাড়ি ও বারান্দার কথা কবি উল্লেখ করেছেন? তার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: কবি তাঁর যে বাড়ি ছেড়ে যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন সেই বাড়ি ও তার বারান্দার কথা এখানে উল্লেখ করেছেন।
▶ যুদ্ধের প্রচণ্ডতায় সমস্ত সমতলে আগুন ধরে যায়; সে আগুনে ধ্বংস হয় কবির 'মিষ্টি' বাড়িটি। ধ্বংস হয়ে যায় সেই বাড়ির বারান্দা আর ঝুলন্ত বিছানা, যেখানে কবি ঘুমিয়েছিলেন। বাড়িতে থাকা গোলাপি গাছ কিংবা চিমনি অথবা প্রাচীন জলতরঙ্গ-সবই চূর্ণ হয়ে যায়, পুড়ে যায় যুদ্ধের আগুনে।
19. "সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।”- কোন্ কোন্ জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কী?
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতার উল্লেখিত অংশে, যে বাড়িতে কবি থাকতেন, বারান্দার যে ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমাতেন, তাঁর প্রিয় গোলাপি গাছ-যার পাতা করতলের মতো ছড়ানো, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ ইত্যাদি চূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
20 "রক্তের একটা কালো দাগ।"-কোথায় এই কালো দাগ
দেখা গিয়েছিল? বিষয়টি
কোন্ তাৎপর্য বহন করে?
উত্তর: যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হওয়া শহরে রক্তের কালো দাগ দেখা গিয়েছিল।
▶ যে-কোনো যুদ্ধই আসলে ধ্বংসকে বয়ে আনে। যেখানে একদিন শহর ছিল, সেখানে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন হয়ে পড়ে থাকে শুধু কাঠকয়লা। দোমড়ানো
লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা ইত্যাদি যেন ধ্বংসের চিহ্ন
হয়ে থাকে। আর রক্তের কালো দাগ হত্যা, হিংসা, রক্তাক্ততার কাহিনিকেই স্পষ্ট করে তোলে। অত্যাচারী
শাসকশক্তি নিজের ক্ষমতা রক্ষার তাগিদে এই রক্তপাত ঘটায়।
21 “যেখানে ছিল শহর”—শহরের কী পরিণতি হয়েছিল এবং কেন?
উত্তর: পাবলো নেরুদা 'অসুখী একজন' কবিতার শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
▶ শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে যুদ্ধ অস্থিরতা আর ধ্বংসকে বহন করে আনে। ঠিক
তেমনই এক যুদ্ধে একটা শহর পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। চারিদিকে
শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। এভাবেই
যুদ্ধের তাণ্ডবে আস্ত একটা শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
Long Question Answer
1" তারপর যুদ্ধ এল"-'তারপর' কথাটির দ্বারা কবি কোন্ সময়ের কথা বলেছেন? যুদ্ধের কোন্ প্রভাব কবি প্রত্যক্ষ করেছিলেন?
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কবি বিপ্লবের আহ্বানে ঘর ছেড়েছিলেন। কবির প্রিয়তমা অপেক্ষা করেছিলেন যে, একদিন কবি ফিরে আসবেন। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। বৃষ্টির জলে একসময় ধুয়ে যায় কবির পায়ের ছাপ। রাস্তা ঢেকে যায় ঘাসে। বছরের পর বছর এভাবে কেটে যাওয়ার পরে একসময় যুদ্ধ শুরু হয়। 'তারপর' কথাটির দ্বারা এই যুদ্ধ শুরুর সময়টিকেই বোঝানো হয়েছে।
▶ যখন যুদ্ধ শুরু হয়
সে যুদ্ধ আসে রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো। শিশুরাও সে হত্যালীলা থেকে রেহাই
পায় না, মানুষের বসতি
ধ্বংস হয়। আগুন লেগে যায় সমতলে। যেসব দেবতারা মন্দিরে ধ্যানমগ্ন ছিল হাজার বছর ধরে, তারা উলটে গিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। অর্থাৎ ধ্বংস আর
বিশ্বাসের ফাটল ঘটে একইসঙ্গে। কবির ফেলে আসা প্রিয় বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ ইত্যাদি যাবতীয় স্মৃতিই যুদ্ধের তাণ্ডবে
চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। শহর রূপান্তরিত হয় ধ্বংসস্তূপে। কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা যেন ধ্বংসের প্রতীক হয়ে উঁকি
দেয়। আর রক্তের কালো দাগ হল সেই হত্যালীলা ও ধ্বংসস্তূপের প্রমাণস্বরূপ। এভাবেই
যুদ্ধ আসে সর্বগ্রাসী চরিত্র নিয়ে।
2. "সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।"-কোন্ মেয়েটির? কীসে তার মৃত্যু হল না? কীভাবে তা সম্ভব হল?
উত্তর: পাবলো নেরুদার লেখা 'অসুখী একজন' কবিতায় যে মেয়েটিকে কবি বিপ্লব অথবা যুদ্ধক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময়ে দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে গিয়েছিলেন, সেই মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।
▶ যুদ্ধেও তার মৃত্যু হল না।
▶ কবি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যান তখন থেকেই কবির প্রিয়তমা মেয়েটির অপেক্ষার শুরু। সে জানত না যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। ফলে তার অপেক্ষা চলতেই থাকে। সপ্তাহ আর বছর কেটে যায়। বছরগুলো পাথরের মতো তার মাথার উপরে নেমে আসে। এরপরে যুদ্ধ আসে। 'রক্তের এক আগ্নেয় পাহাড়ের মতো' সেই যুদ্ধে মানুষের বাসভূমি আগুনে জ্বলে যায়। দেবতারা চূর্ণ হয়ে মন্দির থেকে বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। কবির ফেলে আসা প্রিয় বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ ইত্যাদি যাবতীয় স্মৃতিই আগুনে জ্বলে যায়। শহরের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে পড়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। তার মধ্যেও যখন মেয়েটির অপেক্ষায় জেগে থাকার কথা বলা হয় তা আসলে প্রতীকী। কবি বোঝাতে চান যে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জেগে থাকে ভালোবাসা। যুদ্ধ কোনোদিন জীবনকে পরাজিত করতে পারে না। এভাবেই মেয়েটি বেঁচে থাকে অনন্ত অপেক্ষার মধ্যে দিয়ে।
3. “সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে"-অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: পাবলো নেরুদার Extravagaria গ্রন্থ থেকে গৃহীত একটি কবিতা
'অসুখী একজন' নামে তরজমা করেছেন নবারুণ ভট্টাচার্য। সেই কবিতায় যুদ্ধের
প্রেক্ষাপটে চিরজীবী ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ কবির কাছে 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো'। শিশুহত্যা, নিরাশ্রয়তা যুদ্ধের ভয়াবহ রূপকে স্পষ্ট করে দেয়। মারণ
যুদ্ধের স্পর্শে ছারখার হয়ে যায় পৃথিবী। প্রলয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ধ্বংস হয়ে যায় সব
কিছু। যুদ্ধের আগুনে নিঃশেষ হয়ে যায় চারপাশ। মন্দিরের ভিতরে প্রতিমার সঙ্গে সঙ্গে
ঈশ্বরের ঈশ্বরত্বও ধ্বংস হয়। যুদ্ধের ধ্বংসলীলায় লুপ্ত হয়ে যায় কবির সমস্ত স্মৃতি।
তাঁর ফেলে আসা সুন্দর বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ ইত্যাদি যাবতীয় স্মৃতিচিহ্ন, সবই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। যুদ্ধ শুধু আর্থিক ক্ষতি বা
জীবনহানি নয়, যুদ্ধ ডেকে আনে
মানবিক বিপর্যয়ও। মানুষের স্মৃতির সঞ্চয়কে সে শূন্য করে দেয়। যেসব জিনিসকে আশ্রয়
করে অনুভূতির বিস্তার ঘটে সেগুলি যুদ্ধের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়। ঘরছাড়া একজন
বিপ্লবীর মধ্যেও ফেলে আসা দিনের জন্য যে আবেগ কাজ করে, তা এই গোপন দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যায়।
4. "সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।"-'সব' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তা কীভাবে আগুনে জ্বলে যায় আলোচনা করো।
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতা কবি তাঁর প্রিয় যে বাড়িটিতে থাকতেন সেটি চূর্ণ হয়ে গেল। সেই বারান্দা যার ঝুলন্ত বিছানায় তিনি ঘুমিয়ে থাকতেন সেটিও ধ্বংস হয়ে গেল। চূর্ণ হয়ে গেল প্রিয় গোলাপি গাছ, যার পাতা ছড়ানো করতলের মতো, চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ। 'সব' শব্দটির দ্বারা এইসব কিছু চূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
▶ বিপ্লবীর পথ-চলা
সংগ্রামের দুর্গম পথে। তাই যুদ্ধ সেখানে অনিবার্য। যুদ্ধ আসে রক্তের আগ্নেয়পাহাড়ের
মতো। অর্থাৎ ধ্বংস আর রক্তাক্ততাই যুদ্ধের একমাত্র ফল। কবির মতে সমস্ত সমতলভূমিতে
ধরে যায় আগুন। সে আগুন অনেক কিছুকেই ধ্বংস করে। ধ্যানমগ্ন দেবতারা চূর্ণ হন। মানুষের
আশ্রয় আর অবলম্বন হিসেবে সেটি আর গ্রাহ্য হয় না। অর্থাৎ আগুন লাগে মানুষের
দীর্ঘদিনের চিরাচরিত বিশ্বাসেও। তার ফলেই যুদ্ধের আগুনে ছাই হয়ে যায় সমস্ত
স্মৃতিচিহ্ন। বিপ্লবীর যা কিছু প্রিয় এবং একান্তভাবেই নিজস্ব, সেসবই চূর্ণ হয়ে জ্বলে যায়। এই যুদ্ধ যেন এভাবেই ধ্বংসকে
নিশ্চিত করে দিয়ে যায়। আগুনের সর্বগ্রাসী তাণ্ডবের চিহ্ন হিসেবে পড়ে থাকে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা ইত্যাদি। এভাবেই সবকিছু আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে
যায়।
5 "যেখানে ছিল শহর সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা।”-'অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে শহরের এই পরিণতি কীভাবে হল লেখো।
উত্তর: যুদ্ধ মানেই ধ্বংস আর রক্তাক্ততা। পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতাতেও শিশু আর বাড়িদের খুন হওয়ার ছবি যুদ্ধের ভয়াবহ
চরিত্রকেই তুলে ধরে। যুদ্ধ এসেছিল রক্তের আগ্নেয় পাহাড়ের মতো। সমস্ত সমতল জুড়ে
আগুন ধরে গেল। আর তার আগ্রাসনে পুড়ে গেল সবকিছু। শিশুমৃত্যু ঘটল, মানুষের বাসস্থান ধ্বংস হল, ছারখার হয়েগেল সাজানো পৃথিবী। মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে
ছিটকে পড়ল শান্ত হলুদ দেবতার মূর্তি। তারাও আর স্বপ্ন দেখতে পারল না। অর্থাৎ
যুদ্ধের আগুনে যেন পুড়ে
গেল মানুষের ঈশ্বরবিশ্বাসও। অথচ এরাই হাজার হাজার বছর ধরে
শান্তির প্রতীক হয়ে মন্দিরে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। যুদ্ধের আগুনে পুড়ে গেল কবির ফেলে
আসা সাধের বাড়িঘর, বারান্দায় টাঙানো
ঝুলন্ত বিছানা, বাগান, চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ। যেখানে শহর ছিল সেখানে পড়ে থাকল
শহরের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিছু কাঠকয়লা আর দোমড়ানো লোহা। ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকল
পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। জমাট রক্তের কালো দাগ হত্যালীলা এবং ধ্বংসস্তূপের
সাক্ষী হয়ে থেকে গেল।
7. "আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।"-কোন্ মেয়েটি? তার অপেক্ষায় কার কীভাবে কেটেছে লেখো।
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় কবি যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার পরে যে মেয়েটি তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছিল, এখানে সেই মেয়েটির কথাই বলা হয়েছে।
▶ পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় কবি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভালোবাসার বিস্তারের কথা বলেছেন। মুক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে একজন বিপ্লবীকে তার সংসার, পরিজনকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়। কবির একান্ত প্রিয় মানুষ এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারে না। চলে তার অপেক্ষা। সপ্তাহ শেষ হয়ে বছর চলে যায়, প্রতীক্ষার অবসান হয় না। যুদ্ধ শুরু হয়। সাজানো শহর ধ্বংসস্তূপে রূপান্তরিত হয়। মানুষ নিরাশ্রয় হয়, শিশুহত্যার মতো নারকীয় ঘটনা ঘটে। ভেঙে পড়ে মন্দিরের প্রতিমা। যে বিপ্লবী যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছিল তার স্মৃতিচিহ্নগুলিও ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় কথকের সুন্দর বাড়ি, বারান্দার ঝুলন্ত বিছানা ইত্যাদি। শহর হয়ে ওঠে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা আর পাথরের মূর্তির এক ধ্বংসস্তূপ। রক্তের কালো দাগ নিশ্চিত করে দেয় ধ্বংসের উন্মত্ত চেহারাকে। কিন্তু পাথরের উপরে ফুলের মতোই ধ্বংসস্তূপের উপরে জেগে থাকে ভালোবাসা। কবির প্রিয়তমা মেয়েটির অপেক্ষার শেষ হয় না। কেন-না যুদ্ধ সম্পত্তি বিনষ্ট করতে পারে, জীবনহানি ঘটাতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার অবসান ঘটাতে পারে না।
Paid Answer Link (Membership User)
EDITING BY--Liza Mahanta