Lesson 15 ফাঁকি রাজকিশোর পট্টনায়ক

    👉Paid Answer (For Membership User 

    👉Download Books PDF



ফণীমনসা ও বনের পরি

—------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


লেখক: শিশু ও কিশোরদের জন্য অনলসভাবে সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন সাহিত্যিক বীরু চট্টোপাধ্যায়। তাঁর জনপ্রিয়তাও ছিল যথেষ্ট। শিশু ও কিশোরদের প্রায় সমস্ত পত্রপত্রিকাতেই তাঁর নানা ধরনের লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বীরু চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে, মৃত্যু ১৯৮৪-তে।

উৎস: 'শিশুসাথী' পত্রিকা থেকে 'ফণীমনসা ও বনের পরি' নাটিকাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ: পাতায় গুচ্ছগুচ্ছ কাঁটাভরা গাছ ফণীমনসা। সে তার কাঁটাভর্তি পাতা নিয়ে খুব অসন্তুষ্ট। সে কাঁদে আর ভাবে ঈশ্বর তার প্রতি খুবই নির্দয়। তাই অন্য সব গাছের কী সুন্দর পাতা, আর তার গাছের পাতা এমন কুৎসিত। তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। বনের পরিকে দেখে ফণীমনসা কেঁদে পড়ল। তার কাছে প্রার্থনা করল, তার কুৎসিত পাতাগুলো পালটে সোনার পাতা করে দিতে। বনের পরি ফণীমনসার প্রার্থনা পূরণ করল। তার পাতা হয়ে গেল ঝলমলে সোনার। ফণীমনসা খুব খুশি, আনন্দে একেবারে ডগমগ। এমন সময় সেখানে এসে হাজির হল ডাকাতের দল। তারা মনের আনন্দে ফণীমনসার সোনার সমস্ত পাতাগুলো ছিঁড়ে নিয়ে চলে গেল। ফণীমনসা গাছ কান্নায় ভেঙে পড়ল। ডাকল বনের পরিকে। বলল, সোনার পাতা তার দরকার নেই। তার পাতাগুলো সব কাচের করে মনসা ও বলের শরি বীর চট্টোপাধ্যায় দিলেই ভালো হয়। বনের পরি ফণীমনসার প্রার্থনা পূরণ করল। গাছের পাতা হয়ে গেল চকচকে কাচের। খনিকবাদেই উঠল ঝড়। ঝড়ের দাপটে ধাক্কাধাক্কিতে গাছের সব কাচের পাতা ভেঙে চুরচুর হয়ে গেল। ছোট্ট গাছ সব পাতা হারিয়ে আবার কান্না জুড়ে দিল। বনের পরি কাছে এসে বলল, কাচের পাতা তার চাই না। তার পাতা হোক পালংশাকের মতো ঘন সবুজ সুন্দর কচি পাতা। বনের পরি তার মনোবাসনা পূর্ণ করল। ফণীমনসার পাতা হয়ে গেল পালং শাকের পাতার মতো ঘন নধর সবুজ। এমন সুন্দর কচি সবুজ পাতা আকৃষ্ট করল সর্বভুক ছাগলকে। সে এসে মনের সুখে সব কচি পাতা একেবারে মুড়িয়ে খেয়ে নিল। ফণীমনসা আবার পত্রশূন্য হয়ে কাঁদতে লাগল। এবার বনের পরি এলে সে বলল, তার খুব শিক্ষা হয়েছে। সে আর অন্য কিছু চায় না - তার যেমন পাতা ছিল তেমন পাতা করে দিলেই সে সন্তুষ্ট থাকবে। অবশেষে বনের পরি । ফণীমনসার পাতা আবার সেই কাঁটাওলা ছুঁচোলো করে দিল। আর কোনওদিন ফণীমনসা কোনও বায়না করেনি।

নামকরণ: ছোট্ট নাটিকাটিতে নাট্যকার সকলকে একটা প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। অনেকে আছেন যারা নিজের অবস্থায় খুশি হয় না। তারা নিরন্তর তাদের অবস্থার পরিবর্তন চায়। ঈশ্বরের কাছে আবেদন করে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু দেখা যায় অবস্থার পরিবর্তন করে দিলে তাদের মন্দ বই ভালো হয় না। অনেক ঠেকে তাদের শিক্ষা হয় যে, তাকে ঈশ্বর যেভাবে সৃষ্টি করেছেন তাতেই তার সবচেয়ে মঙ্গল। ঈশ্বর সর্বদাই ন্যায় বিচারক। তাঁর ব্যবস্থা সর্বদাই সর্বোৎকৃষ্ট। যে সেটা বোঝে না, ঈশ্বর তাকে সেটাভরা কুৎসিত পাতার জ তার পাতা সোনা, কাচ, পালংশাকের মতো নধর বনের পরির কাছে কেঁদেকেটে। কিন্তু অনেক যা আবার তার নিজের রূপেই ফিরতে চেয়েছে।- রূপে ঈশ্বর পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন সেটাই ত এরপর আর তার মনে কোনও দুঃখ থাকল না যেহেতু এই নাটকটিতে কেন্দ্রীয় পরি-তাই এই নামকরণ সার্থক।

শব্দার্থ, ব্যাখ্যা, টীকা ইত্যাদি: সূত্রধার- নাটে করেন যিনি। গভীর বন - ঘন অরণ্য। ফল প্রকার গুল্ম- পাতা ছুঁচালো, পাতায় ভরতি কাঁ মধ্যে জন্মায়। এক ফোঁটাও - বিন্দুমাত্র। রি ঘৃণায় মন পূর্ণ হয়ে যায়। বিচ্ছিরি - কুখ পস্তানো, অনুশোচনা। বরাত- ভাগ্য। করাত কাঠ চেরাই করার যন্ত্র বিশেষ। বর্ষা – ফলক- বর্শার ন্যায়। রক্ত – ঝলক রক্ত ঝলকে ওঠে , প্রবলবেগে রক্ত নির্গত হয়। স্মরি - স্মরণ করি, মনে করি। করুণা - দয়া। বিতিকিচ্ছিরি - খুব খারাপ চেহারা বা আকৃতি। তথাস্তু - তাই হোক। অদৃশ্য - মিলিয়ে যাওয়া। বাচ্চা - বৎস, ছোটো। অজস্র - প্রচুর, অনেক। ঝলমলে - খুব উজ্জ্বল। ডগমগ - উৎফুল্ল। বারেক একবার। নজর - দৃষ্টি। নুয়েছে- নীচের দিকে হেলে পড়েছে। পোঁটলা বেঁধে - কাপড়ের মধ্যে ভালো করে বেঁধে নেওয়া। ন্যাড়া - শূন্য। সূর্যের কিরণ - রৌদ্র। সারা অঙ্গ - সারা দেহ। রামধনু রং - রামধনুর মতো রং, রামধনুর সাতটা রং থাকে, সেই রকমের রং-কে রামধনু রং বলে। মৃদুমন্দ - অল্পঅল্প। সুমধুর - খুব মিষ্টি দুর্দান্ত বাড় - প্রবল বাড়। দর্প ভরে - অহংকারের সঙ্গে। পবনের – বাতাসের। পর্ণ - প্রতিজ্ঞা। অঝোরে কান্না - প্রবল বর্ষণের মতো কান্না। ত্বরা শীঘ্র। জুড়িয়ে যায় - তৃপ্ত হয়। বেবাক — সমগ্র। গিলি গলাধঃকরণ করি। মুড়াই মাথা - মাথা সব খেয়ে ফেলি। কচকচ - ধন্যাত্মক শব্দ। ছাগল কচি পালংশাক পাতা চিবিয়ে কচকচ করে খেয়ে ফেলার শব্দ। দুর্দশা - খারাপ অবস্থা। হাড় জিরজিরে চেহারা - একেবারে মেদবিহীন হাড় সর্বস্ব চেহারা। বায়নাক্কা – আবতদায় বা বায়না।


হাতে কলমে 


১। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:


১.১ ফণীমনসা তুমি দেখেছ? কোথায় দেখেছ?


উত্তরঃ হ্যাঁ, ফণীমনসা গাছ আমি দু-চারটে দেখেছি। আমাদের বাড়ির পিছনে কিছুটা জায়গায় ঝোপজঙ্গল মতো আছে। সেখানে ঝোপের মধ্যে ফণীমনসার ঝাড় দু-একটা এখনও বেঁচে আছে।


১.২ আর কোন্ কোন্ গাছ তুমি দেখেছ যাদের কাঁটা আছে?


উত্তর: খেজুর, বাবলা, করমচা, বৈঁচি, গোলাপ প্রভৃতি গাছে কাঁটা আছে।


১.৩ গাছের কাঁটা কীভাবে তাকে বাঁচায়?


উত্তর : গাছের কাঁটা গাছকে নানাভাবে রক্ষা করে। গাছের যারা শত্রু, যেমন - পোকামাকড়, জীবজন্তু, তারা কাঁটার জন্য কাঁটাযুক্ত গাছেদের কাছে ঘেঁষতে পারে না। ফলে তারা বেঁচে যায়।


১.৪ পরির গল্প তুমি কোথায় পড়েছ?


উত্তরঃ পরির গল্প আমি রূপকথার বইতে পড়েছি।


১.৫ সোনার মতো দামি আর কোন্ ধাতুর কথা তুমি জানো?


উত্তর: সোনার মতো দামি ধাতু হল প্লাটিনাম, হিরে প্রভৃতি।


২। নীচের এলোমেলো বর্ণগুলি সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

লতকাডাদ, নণীফসাম, রিবিচ্ছিতিকি, কংপাশাল।


উত্তরঃ ল ত কা ডা দডাকাতদল


 ন ণী ফ সা ম —  ফণীমনসা। 


রি বি চ্ছি তি কি  —  বিতিকিচ্ছিরি


কং পা শা ল   পালংশাক


৩। এলোমেলো শব্দগুলিকে সাজিয়ে সঠিক বাক্যটি লেখো:


৩.১ বলো চাও কীরকম তুমি পাতা।


উত্তরঃ তুমি কীরকম পাতা চাও বলো।


৩.২ হয়েছে তো সুবুদ্ধি তোমার এই।


উত্তরঃ এই তো তোমার সুবুদ্ধি হয়েছে।


৩.৩ না আর পাতা চাই সোনার।


উত্তর: আর সোনার পাতা চাই না।


৪। নীচের শব্দগুলোর একই অর্থ বোঝায় এমন শব্দ নাটকে ছড়িয়ে আছে। নাটক থেকে খুঁজে নিয়ে যে শব্দটি নীচের যে শব্দটার সঙ্গে মানায় লেখো:  বিশ্রী, বল্লম, হঠাৎ, সমস্ত, তবে তাই হোক, অনেক ভাগ্য, ভীষণ, আবদার, কঙ্কালসার, অবস্থা, গর্ব, প্রতিজ্ঞা, শরীর।


উত্তর :  বিশ্রীবিচ্ছিরি 


বল্লমবর্শা। 


হঠাৎ — পলক। বেবাক। 


অনেক —  অজস্র। 


ভাগ্য —  সমস্ত বরাত। 


ভীষণ —  দুর্দান্ত। 

আবদার —  বায়নাক্কা।


 অবস্থা —  হাল।


 গর্ব —  দর্প, দেমাক। 


প্রতিজ্ঞা — পণ। 


শরীর —  অঙ্গ। 



৫। নীচের বাক্যগুলির দাগ দেওয়া প্রতিটি অংশই কোনো না কোনো আওয়াজ বোঝায়। এমন অনেক শব্দ নাটকে ছড়িয়ে আছে। খুঁজে বের করে লেখো। যেমন- ছাগল কচকচ করে পাতা খেল। পত পত পত ওড়াই পাতা।


উত্তরঃ সরাৎ সরাৎ শব্দেতে জ্বালা ধরে। 


ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিয়ে বড়োলোক হয়ে যাবে-রে…….. 


সুমধুর টুং-টাং শব্দ হতে লাগল।


 হু-হু-হু শোঁ-শোঁ-শোঁ করে


 চলি মোরা দর্প ভরে। 


মট মট মট ভাঙি মাথা।


৬। মুখে বললে, নীচের দাগ দেওয়া শব্দগুলো কীভাবে বলবে, লেখো: তোমায় স্মরি

করুণা করি বাঁচাও— 


উত্তরঃ তোমায় স্মরি —  তোমাকে স্মরণ করি।


 করুণা করি বাঁচাও —  করুণা করে বাঁচাও।


৭। দাগ দেওয়া অংশে সমার্থক শব্দ বসিয়ে নীচের বাক্যগুলি আবার লেখো। শব্দঝুড়ির সাহায্য নিতে পারো: অবিরাম, অবস্থা, গগন, যন্ত্রণা, চারাগাছ, প্রবল, আরম্ভ


৭.১ আহা-হা ব্যথায় মরি।


উত্তরঃ আহা-হা যন্ত্রণায় মরি।


৭.২ শুরু হল কচি গাছের অঝোর কান্না।


উত্তরঃ আরম্ভ হল চারাগাছের অবিরাম কান্না।


৭.৩ ডাকাতেরা আমার কী হাল করে রেখে গেছে।


উত্তরঃ ডাকাতেরা আমার কী অবস্থা করে রেখে গেছে।


৭.৪ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়।


উত্তরঃ গগন দিয়ে ধেয়ে এল প্রবল ঝড়।


৮। নীচের বাক্যগুলিতে দাগ দেওয়া অংশগুলি আর কীভাবে লিখতে পারো? বাক্য যদি বদলে যায়, বদলেই লেখো। শব্দঝুড়ি থেকে সাহায্য নিতে পারো: গর্বে বুক ভরে ওঠে, লোভ জাগছে, মাফ করে দাও, হিংসায় জ্বলে ওঠে।


৮.১ মন তার রি রি করে ওঠে।


উত্তরঃ মন তার হিংসায় জ্বলে ওঠে


৮.২ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না


উত্তরঃ ছোট্ট গাছটির এবার গর্বে বুক ভরে ওঠে


৮.৩ জিবে জল ঝরছে তোরে পেয়ে গো।


উত্তরঃ লোভ জাগছে তোরে পেয়ে গো।


৮.৪ ঘাট হয়েছে কানে ধরি।


উত্তর :  মাফ করে দাও কানে ধরি।


৯। কাচ-কাচ আর চাই না। এই বাক্যে পরপর দুটো শব্দ বসেছে, যেখানে দ্বিতীয় শব্দটির তেমন কোনো মানে নেই। আরো একটা তোমার জন্য দেওয়া হল। কাপড়-চোপড়। এরকম শব্দ তুমি আরেকটা লিখতে পারো। লেখো। 


উত্তরঃ জল-টল। বই-টই। তামা-ফামা। রাস্তা-বাস্তা। পুকুর- টুকুর। গন্ধ-টন্ধ। দাদা-টাদা। দিদি-টিদি।— এ ধরনের অজস্র শব্দ আমরা সব সময় ব্যবহার করে থাকি।


১০। ছাগল খেয়ে ফেলেছিল কচি কচি পালং পাতা। দাগ দেওয়া অংশে একটা শব্দ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়েই একটার জায়গায় অনেকগুলো পাতা বোঝাছে। এইরকম আর একটা শব্দ পরপর দুবার ব্যবহার করে এক একের জায়গায় অনেক বোঝাতে পারবে? নাটকে ক-টি শব্দ খুঁজে পাও, তা লেখো:


উত্তরঃ  সুন্দর সুন্দর পাতা —  অনেকগুলো সুন্দর পাতা।


সরাৎ সরাৎ শব্দেতে — অনেকবার সরাৎ সরাৎ শব্দ।


  পলক পলক মনটা —  ক্ষণে ক্ষণে মনটা।


ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিয়ে —  ছিন্ন করে নেওয়া। 


পতপতপত ওড়াই পাতা —  খুব ওড়া পতপত আওয়াজ করে। 


মটমটমট ভাঙি মাথা —  মট মট শব্দে মাথা ভাঙা।


ঝন ঝন ঝন ঝন —  ভাঙার আওয়াজ।


কচ কচ করে খেয়ে ফেলল —  চিবিয়ে খাওয়ার আওয়াজ।


মোটামোটা লোকগুলো —  অনেক স্থূলকায় মানুষ।


 ১১। নীচের শব্দগুলির বিপরীতার্থক শব্দগুলি নাটকেই আছে। শব্দগুলি খুঁজে বার করো। সেই সকল শব্দ দিয়ে বাক্য রচনা করো:


উত্তরঃ দুর্বুদ্ধি —  সুবুদ্ধি —  ফণীমনসা অনেক ঘা খেয়ে অবশেষে সুবুদ্ধি লাভ করল।


অসন্তুষ্ট —  সন্তুষ্ট — যে নিজের অবস্থায় সন্তুষ্ট না থাকে তার অশেষ দুঃখ।


 অসুন্দর —  সুন্দর —  ফণীমনসা চেয়েছিল তার পাতাগুলো সুন্দর হোক।


দুঃখ —  সুখ —  সুখ তো সবাই চায়।


অল্প — অজস্র —  ফণীমনসার পাতাগুলো অজস্র সোনার পাতায় ভরে গেল।


বুড়ো —  বাচ্চা —  বাচ্চা ছেলেরা তো একটু বেশি খেলা করবেই।


১২| 'মৃদুমন্দ বাতাস' শব্দটির মানে 'হালকা হাওয়া' আর মন্দ  কথাটা সাধারণত আমরা ব্যবহার করি 'খারাপ'/'ভালো । নয়' অর্থে। দুটো অর্থেই দু'টো বাক্য লেখো।

উত্তরঃ মন্দ (খারাপ) —  মন্দ ছেলেদের সঙ্গে এড়িয়ে চলাই ভাল।


মন্দ (হালকা, অল্প) বাতাস মন্দ হয়ে পড়ায় নৌকায় দাঁড় টানতে হল।

   

১৩। নীচের শব্দগুলি দিয়ে বাক্য লেখো:


উত্তর: ওলট পালট —  আমার ভাইটা এত দুষ্টু সে বইপত্র সবসময় ওলটপালট করে রাখে।


দুর্দান্ত —  রমা পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিল।


ঝিকমিকি —  নদীর জলে সূর্যের কিরণ পড়ে জলটা ঝিকিমিকি করতে লাগল।


স্বচক্ষে —  আমি স্বচক্ষে দেখলাম একটা চিল ছোঁ মেরে তার হাতের ঠোঙাটা নিয়ে উড়ে গেল।


দুর্দশা —  কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা আর্থিক দুর্দশার মধ্যে পড়ে গেল।


১৪। কোল্টি, কী ধরনের বাক্য লেখো:


১৪.১ আ! কী শান্তি! —  বিস্ময়বোধক বাক্য।


১৪.২ পাতা পালটাতে চাও? —  প্রশ্নসূচক বাক্য।


১৪.৩ সোনার পাতা আর চাই না। —  নির্দেশক বাক্য।


১৪.৪ বেশ তাই হোক! তথাস্তু! —  অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।


১৪.৫ এবার তুমি আমায় কাচের পাতা দাও। —  প্রার্থনাসূচক বাক্য। 


১৫। ছোটো ছোটো বাক্যে ভেঙে লেখো:


১৫.১ কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি দেখতে লাগল।


উত্তরঃ কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ল। সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি দেখতে লাগল।


১৫.২ পরি অদৃশ্য হতেই ফণীমনসার গা ভরে দেখা দিল কচি নরম পাতা।


উত্তর : পরি অদৃশ্য হয়ে গেল। ফণীমনসার গা ভরে সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিল কচি নরম পাতা।


১৫.৩ ডাকাতেরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে পোঁটলা বেঁধে ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।


উত্তর :  ডাকাতেরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ল। সেগুলো নিয়ে পোঁটলা বাঁধল। ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে দিল।


১৫.৪ ভয়ানক ঝড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।


উত্তরঃ ভয়ানক ঝড় উঠল। ফণীমনসার গাছের সমস্ত পাতা কিছুক্ষণের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে গেল।


১৬। পাশাপাশি ছোটো ছোটো বাক্যগুলি যোগ করে একটি বাক্য তৈরি করো:


১৬.১ একসময় ঝড় থামল। আর শুরু হল বাচ্চা গাছের অঝোরে কান্না।


উত্তরঃ একসময় ঝড় থেমে গেলে শুরু হল বাচ্চা গাছের অঝোর কান্না।


১৬.২ এমন সময় সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল সে।


উত্তরঃ এমন সময় সেই পথ দিয়ে বনের পরি যেতে যেতে ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল।


১৬.৩ গভীর বন। তার গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই।


উত্তরঃ গভীর বনের মধ্যে ছোট্ট ফণীমনসা গাছটির মনে এক ফোঁটাও শান্তি নেই।


১৬.৪ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না। মৃদুমন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে লাগল সে।


উত্তরঃ ছোট্ট গাছটি এবার দেমাকে মাটিতে পা না ফেলে মৃদু মন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে লাগল মজা করে।


১৭। আরো বিশেষণ যোগ করতে পারো? একটা তোমার জন্য রইল :


      কচি                           নরম                              সবুজ পাতা।


—----------------            —-----------------                   ছোট্টো গাছ।


—----------------            —-----------------                    ন্যাড়া চেহারা।


 —----------------            —-----------------                  জোয়ান ডাকাত। 


 —----------------            —-----------------                    ছোট্ট মেয়ে।


উত্তরঃ লকলকে নধর নরম ছোট্ট গাছ।


পাতাঝরা কঙ্কালসার ন্যাড়া চেহারা।


ডাকাবুকো লম্বা চওড়া জোয়ান ডাকাত।


টকটকে ফর্সা সুন্দর ছোট্ট মেয়ে।


১৮। পাশে যেভাবে বলা আছে, সেই অনুযায়ী নীচের বাক্যগুলি বদলে আমার লেখো: 


১৮.১ আকাশ দিয়ে ধেয়ে আসবে দুর্দান্ত ঝড়। ঝড় আগামীকাল এলে কী লিখবে?


উত্তরঃ আকাশ দিয়ে ধেয়ে আসবে দুর্দান্ত ঝড়।


১৮.২ বলতে দেরি আছে কিন্তু চিন্তা নিতে দেরি নেই। (কথাগুলো গতকাল হয়েছে বলতে হলে যেভাবে লিখবো।)


উত্তরঃ বলতে দেরি ছিল, কিন্তু নিতে দেরি ছিল না।


১৮.৩ যে পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। (কথাগুলো এখনই বলা হচ্ছে, এমন হলে কী লিখবে?)


উত্তর : যে পথ দিয়ে চলেছে বনের পরি।


১৯। একটি বাক্যে উত্তর দাও :


১৯.১ ছোট্ট ফণীমনসা গাছের মনে শান্তি ছিল না কেন?


উত্তর : ফণীমনসা গাছের আশপাশের গাছগুলোর খুব সুন্দর সুন্দর


১৯.২ ফণীমনসা গাছের আশেপাশের গাছগুলোর পাতা কেমন ছিল?


উত্তর : ফণীমনসা গাছের আশপাশের গাছগুলোর পাতাগুলো ছিল খুব সুন্দর।


১৯.৩ ফণীমনসা বারে বারে পাতাগুলো পালটে দেওয়ার আবেদন কার কাছে করছিল?

উত্তর : ফণীমনসা তার পাতাগুলো বারবার পালটে দেওয়ার জন্য বনের পরির কাছে আবেদন করছিল।


১৯.৪ প্রথম বারের আবেদনে ফণীমনসার গাছ জুড়ে কেমন পাতা হয়েছিল?


উত্তর : প্রথম বারের আবেদনের ফলে বনের পরি ফণীমনসার গাছের সব পাতাগুলো সোনার পাতা করে দিল।


১৯.৫ সে সব পাতা ফণীমনসা হারালো কী করে?


উত্তরঃ ফণীমনসা গাছের সুন্দর সোনার পাতাগুলো সব ডাকাতেরা এসে ছিঁড়ে পোঁটলা বেঁধে নিয়ে চলে গেল।


১৯.৬ ডাকাতদলকে দেখতে কেমন?


উত্তরঃ ডাকাতদলের চেহারা জোয়ান, কানে জবাফুল গোঁজা, তাদের মাথা বাবরি চুলে ভরা।


১৯.৭ ঝড় এলে ফণীমনসা গাছের কাচের পাতার কী অবস্থা হল?


উত্তরঃ ঝড় এলে ফণীমনসা গাছের কাচের পাতা ধাক্কা খেয়ে খেয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।


১৯.৮ ছোট্ট ফণীমনসা গাছের দেমাকে মাটিতে পা পড়ছিল না কেন?


উত্তরঃ পরি ফণীমনসা গাছের আবেদনে তার সব পাতাগুলো পালং-এর মতো কচি নরম সবুজ পাতায় ভরে দিল। ফণীমনসা গাছের রূপ হয়ে গেল খুব সুন্দর। তখন ছোট্ট গাছটির দেমাকে আর মাটিতে পা পড়ছিল না।


১৯.৯ সেই দেমাক তার ভেঙে গেল কীভাবে?


উত্তরঃ একটা ছাগল এসে ফণীমনসার গাছের সুন্দর কচি পাতা অতিরিক


১৯.১০ শেষ পর্যন্ত ফণীমনসা কেমন পাতা চাইল নিজের জন্য?


উত্তর : শেষ পর্যন্ত ফণীমনসা গাছ তার যে রকম কাঁটাভরা ছুঁচোলো পাতা ছিল সেই রকম পাতাই চেয়ে নিল বনের পরির কাছ থেকে।


২০। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:


২০.১ "বাচ্চা গাছটি তো মহা খুশি। আনন্দে ডগমগ”। -এত আনন্দ কখন হল বাচ্চা গাছের?


উত্তরঃ বাচ্চা ফণীমনসা গাছটা তার কাঁটাভরা পাতা নিয়ে মোটেই খুশি ছিল না। সে বনের পরির কাছে আবেদন করল তার পাতাগুলো সব সোনার পাতা করে দিতে হবে। বনের পরি ফণীমনসা গাছের আবেদনে সাড়া দিয়ে তার সব পাতা উজ্জ্বল সোনার পাতায় পরিণত করে দিল। নিজের পাতার সুন্দর চেহারা দেখে ফণীমনসা গাছ আনন্দে ডগমগ হয়ে উঠল।


২০.২ ফণীমনসা গাছ কাচের পাতায় ভরে ওঠবার পরে তার চেহারাটি কেমন হয়েছিল?


উত্তরঃ ফণীমনসা গাছ কাচের পাতায় ভরে উঠলে তার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল। মৃদুমন্দ বাতাসের দোলা লেগে সুমধুর টুং-টাং শব্দ হতে লাগল।


২০.৩ মৃদু বাতাসে মনের আনন্দে দুলছে ফণীমনসা, এমন সময় ছাগল এসে উপস্থিত হওয়ায় কী ঘটল?


উত্তরঃ মনের আনন্দে মৃদু বাতাসে আনন্দে যখন ফণীমনসা গাছ দুলছে সেই সময় একটা ছাগল এসে ফণীমনসার সুন্দর কচি সুবজ পাতাগুলো সব কচকচ করে খেয়ে ফেলল।


২০.৪ ছোট্ট গাছটি সত্যিই কি খুব শিক্ষা পেল বলে মনে হচ্ছে তোমার? কেমন সে শিক্ষা?


উত্তর: ছোট্ট ফণীমনসা গাছ সত্যিই শিক্ষা পেল। সে তার নিজস্ব যে পাতা ছিল তা নিয়ে আদৌ সন্তুষ্ট ছিল না। সে মনে করত তার পাতাগুলো বিতিকিচ্ছিরি। বনের পরির কাছে সে একে একে সোনার পাতা, কাচের পাতা, পালংশাকের মতো নধর সবুজ পাতা চেয়ে নিল। কিন্তু তার যা পরিণতি হল তাতে সে বুঝল যার যেমন পাতা প্রকৃতি দিয়েছে তাতেই তার সন্তুষ্ট থাকা উচিত। তা না হলে বিপদ অনিবার্য।

উত্তরঃ ফণীমনসা গাছটি ছিল বনের গভীরে।


অতিরিক্ত সংযোজন 


১। ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো: 


১.১ ফণীমনসা গাছটি ছিল বনের- ধারে/শেষে/গভীরে/শুরুতে (ফালাকাটা হাইস্কুল)


উত্তর : ফণীমনসা গাছটি ছিল বনের গভীরে


১.২ ফণীমনসা গাছটির পাতা ছিল- পানপাতার মতো গোল/ছুঁচালো/ভোঁতা।


উত্তর: ফণীমনসা গাছটির পাতা ছিল ছুঁচালো

১.৩ ফণীমনসা পরিকে স্মরণ করেছিল মোট- দুই/তিন/ চার/পাঁচ বার।


উত্তরঃ ফণীমনসা পরিকে স্মরণ করেছিল মোট চার বার।


১.৪ গাছের সবুজ পাতাগুলি খেয়েছিল-গোরু/ছাগল/ভেড়া/ হরিণ।


উত্তর: গাছের সবুজ পাতাগুলি খেয়েছিল ছাগল


১.৫ সোনার পাতা পেয়ে ফণীমনসার আনন্দে ডগমগ হওয়ার কারণ-তাকে এবার আর ছাগলে খেতে পারবে না/ | আর কোনো গাছের সোনার পাতা নেই/তার প্রিয় পরি তাকে সোনার পাতা দিয়েছে/তার বিতিকিচ্ছিরি পাতাগুলো এবার ঝলমল আর সুন্দর হয়ে উঠেছে।


উত্তর : সোনার পাতা পেয়ে ফণীমনসার আনন্দে ডগমগ হওয়ার কারণ — তার বিতিকিচ্ছিরি পাতাগুলো এবার ঝলমলে আর সুন্দর হয়ে উঠেছে।


১.৬ ফণীমনসা গাছের দেমাক হয়েছিল যে পাতা নিয়ে- সোনার/কাচের/সবুজ কচি/পাথরের।


উত্তরঃ ফণীমনসা গাছের দেমাক হয়েছিল সবুজ কচি পাতা নিয়ে।


২। শূন্যস্থান পূরণ করো:


২.১ গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও —------------------ নেই।


উত্তর: গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই।


২.২ তোমার পায়ে পড়ি আমার এই—-------------------- পাতাগুলি পালটে দাও।


উত্তরঃ তোমার পায়ে পড়ি আমার এই বিতিকিচ্ছিরি পাতাগুলি পালটে দাও।


২.৩ —---------------------করি যে, মোরা এই তো মোদের —-------------------------।


উত্তর: ওলটপালট করি যে, মোরা এই তো মোদের পণ


২.৪ দেখলে —----------------  জুড়িয়ে যায়।


উত্তরঃ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।


২.৫ —------------------ বেবাক সৃষ্টি। 

উত্তরঃ ভগবানের বেবাক সৃষ্টি।


২.৬ আমি কাছ থেকে সব —---------------------- দেখেছি।


উত্তর: আমি কাছ থেকে সব স্বচক্ষে দেখেছি।


২.৭ সেই আমার —--------------------  বলো।


উত্তরঃ সেই আমার শত গুণে বলো।


২.৮ এই তো —---------------------- হয়েছে তোমায়।


উত্তর: এই তো সুবুদ্ধি হয়েছে তোমায়।


২.৯ তার তোমার মতোই —-------------------- হয়।


উত্তর: তার তোমার মতোই দুর্দশা হয়।


২.১০ সে মিছে —--------------------  করো না।


উত্তরঃ সে মিছে বায়নাক্কা করো না।


৩। অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:


৩.১ ফণীমনসা গাছটি কোথায় ছিল?


উত্তর : ফণীমনসা গাছটি বনের গভীরে ছিল।


৩.২ "মঞ্জিরে জল ঝরছে তোরে পেয়ে গো?” — কে, কখন এই কথা বলেছিল? 


উত্তরঃ ছাগল, ফণীমনসা কচি সবুজ পাতা দেখে এ কথা বলেছিল।


৩.৩ "ভগবানের বেবাক সৃষ্টি”। বলা হয়েছে?----  কার সম্পর্কে একথা


উত্তরঃ পাগল সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে।


৩.৪ ফণীমনসার কাচের পাতাগুলি কেন ভেঙে পড়েছিল? (শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম ইনস্টিটিউট)


উত্তরঃ ঝড়ে ফণীমনসার কাচের পাতাগুলি ভেঙে পড়েছিল।


৩.৫ 'ফণীমনসা ও বনের পরি' নাটকটির কোন্ চরিত্রে তুমি অভিনয় করতে চাইবে ও কেন? (পর্ষদ নমুনা)


উত্তরঃ পরি ফণীমনসাকে সঠিক পথে চালিত করতে চেয়েছিল-ওই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে ও তাই আমি পরির ভূমিকায় অভিনয় করতে চাই।


৪। নীচের শব্দগুলির অর্থ লেখো। স্মরি, জিগ্যেস, সহসা, জোয়ান, ধরিব, পণ, দেমাক, স্বচক্ষে, নজর।


উত্তরঃ স্মরি —  স্মরণ করি। 


জিগ্যেস —  জিজ্ঞাসা ।


 সহসা —  হঠাৎ ।


জোয়ান —  যুবক । 


ধরিব —  ধরব । 


পণ —  প্রতিজ্ঞা ।


দেমাক —  অহংকার ।


 স্বচক্ষে —  নজর দৃষ্টি। 


নিজের —  চোখে ।


৫। প্রতিশব্দ লেখো: মাথা, গাছ, সূর্য, বাতাস, জল।


উত্তর: মাথা —  মস্তক, শির, উত্তমাঙ্গ, বরাঙ্গ।


সূর্য —  তপন, ভানু, দিবাকর, দিননাথ, অরুণ।


বাতাস —  বায়ু, পবন, সমীর, সমীরণ।


জল —  পানীয়, উদক, জীবন, বারি, সলিল।


৬। 'মাথা' শব্দটিকে তিনটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য রচনা করো। 


উত্তরঃ  মাথা (অঙ্গ): সৌপ্তিকের মাথা শরীরের তুলনায় বেশ বড়ো।


মাথা (প্রধান) : রামবাবু আমাদের গ্রামের মাথা। 


মাথা (দক্ষতা): রবির অঙ্কে মাথা আছে।













Paid Answer (For Membership User)